সোমবার, মে ২৭, ২০২৪
Homeটাঙ্গাইল জেলাগোপালপুরআগামী সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াই

আগামী সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াই

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক:

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো দীর্ঘ সময় বাকী থাকলেও আগে ভাগেই নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর উপজেলায়।

ঈদুল ফিতরে’র শুভেচ্ছার পাশাপাশি এই আসনের সম্ভাব্য বিভিন্ন দলের এমপি প্রার্থীরা ব্যানার ফেস্টুন, গণসংযোগ, সাংবাদিক, নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়সহ বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) দুই’টি উপজেলা নিয়ে একটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য ৭ জন প্রার্থী, বিএনপি ৩ জন ও জাতীয় পার্টির ১ জন এ আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকেই জোর লবিং শুরু করেছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, চা-স্টল গুলোতে রঙিন পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে নিজের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন।

এ ছাড়া একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। হোটেল-রেস্তোরা, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় সংসদ নির্বাচন এখন টক অব দ্যা টাউন।

ভূঞাপুর ও গোপালপুর নির্বাচনী কার্যালয় সূত্রে, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪২৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৯ জন।

এ আসনে পূর্বের সাংসদ : ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে হাতেম আলী তালুকদার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে ১৯৮০ সালে আফাজ উদ্দিন ফকির বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে শামছুল হক তালুকদার ছানু এবং ১৯৮৮ সালে জাসদের আব্দুল মতিন হিরু সাংসদ নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র সাবেক শিক্ষা ও শিল্প উপ-মন্ত্রী বর্তমানে একুশে আগষ্ট গ্রেনেট হামলা মামলার আসামী এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু, আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাতেম আলী তালুকদারকে পরাজিত করে প্রথম বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম অর্থ সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত হন।

এরপর, ২০০১ সালের নির্বাচনে এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু ২২৭৪ ভোটের ব্যবধানে খন্দকার আসাদুজ্জামানকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মত নির্বাচিত হয়ে প্রথমে শিক্ষা উপ-মন্ত্রী এবং পরে শিল্প উপ-মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে নির্বাচনে এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টুর ছোট ভাই বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু’কে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মত খন্দকার আসাদুজ্জামান সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন।

এ ছাড়াও ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এক তরফা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) প্রার্থী আজিজ বাঙ্গালকে (সাইকেল প্রতীক) বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয় বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন।

জানা গিয়েছে, বর্তমান সাংসদ খন্দকার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে অসুুুস্থ্য থাকায় তাকে তার নির্বাচনী এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তবে, তার অবর্তমানে খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে মশিউজ্জামান রোমেল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। অসুস্থ্য থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি’র সাবেক উপ-মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জেল-হাজতে থাকায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে না পারলেও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ আসনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে বলে দলীয় ও তার অনুসারী সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা খন্দকার আসাদুজ্জামান ও বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপ-মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু তার নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।

এদিকে প্রচারনা চালাচ্ছেন যারা: খন্দকার আসাদুজ্জামানের পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রুমেল, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, কর্ণেল মির্জা হারুন অর রশিদ (অবঃ), ভূঞাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম এ্যাডভোকেট, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ, গোপালপুর উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী তালুকদার ঠান্ডু ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান (ছোট মনি)।

বিএনপি’র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু, তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ভূঞাপুর উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক মন্ডল। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) আলহাজ্ব শামছুল হক তালুকদার ছানু।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -