Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, ধর্ষণ নয়: আদালত

News Tangail

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ঘটনাটি উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, ধর্ষণ নয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা কামরুন্নাহারের আদালত রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ জনকে খালাস দেন। খালাস পাওয়া অন্যরা হলেন- সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাতে বনানীর দ্যা রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তরুণীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রেইনট্টি হোটেলেই ঘটে ধর্ষণের ঘটনা।

ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর ৬ মে বনানী থানায় মামলাটি করেন এক তরুণী। অভিযোগে তিনি বলেন, ওই হোটেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে ও তার এক বন্ধুকে রাতভর আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করেন। অন্য তিনজন তাদের সহায়তা করেন।

এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজপথে মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন। মামলার পর ১১ মে সিলেট থেকে সাফাত ও সাদমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদেরও পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলায় রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দুই ভিকটিম স্বেচ্ছায় রেইনট্রি হোটেলে যান। সেখানে উভয়ের সম্মতিতে তারা সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। তাদেরকে ভয়ভীতি বা মারধর করে ধর্ষণ করা হয়নি। ঘটনার ৩৮ দিন পর আসামি সাফাত আহমেদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার প্ররোচনায় মামলা করেন। ধর্ষণের উপাদান না পাওয়ার পরও পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে অহেতুক ট্রায়ালে পাঠায়। মামলাটির বিচারকাজ এ আদালতে চলেছে ৯৩ কার্যদিবস। এতে আদালতের সময় নষ্ট হয়েছে।

বিচারক বলেন, মামলায় যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আগে থেকেই ভিকটিমরা ফিজিক্যাল রিলেশনে অভ্যস্ত ছিল। তারা প্রায়ই তাদের বয়ফ্রেন্ডদের সঙ্গে ফিজিক্যাল রিলেশনে যান। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আসামিদের খালাস দেওয়া হলো।

আদালত এদিন দুপুর ১টা ১০ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন। আদালত বলেন, মামলার এজাহারে বাদী সাফাতের স্ত্রী পিয়াসাকে খালাতো বোন হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তিনি বলেন, আসলে পিয়াসা তার খালাতো বোন নন। এজাহারে তিনি মিথ্যা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন। মামলার বাদীর সাক্ষ্য থেকে দেখা যায়, কখন, কোথায়, কীভাবে, কোন রুমে তাদের ধর্ষণ করা হয় সে সম্পর্কে তারা কিছু বলেননি।

আদালত আরও বলেন, ধর্ষণের শিকার হলে ভিকটিমদের কাজ ছিল থানায় যাওয়া। তারা তা না করে আগেই তাদের বন্ধু শাহরিয়ার আহমেদ এবং স্নেহার সঙ্গে দেখা করেন। তাছাড়া তারা ড্রিংকস করেন। বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেন। ওই হোটেলের ১১ জন কর্মচারির মধ্যে কেউ সাক্ষ্যে বলেননি এমন ঘটনা ঘটেছে।

বিচারক বলেন, এ মামলায় আসামি সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ ও বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবনাবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে সাদমান ও বিল্লাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা উঠে আসেনি। আর সাফাত বলেছেন, উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তারা শারীরিকভাবে মিলিত হয়। বিষয়টি ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে কি না? তবে নাঈম আশরাফ একজনকে ধর্ষণ করেছে বলে জবানবন্দিতে বলেছেন; কিন্তু আদালতে দেওয়া সাক্ষিতে তা প্রমাণিত হয়নি। ভিকটিমদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, তবে ধর্ষণ নয়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version