Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

ঘরমুখো ঈদ যাত্রা: বঙ্গবন্ধু সেতু-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাড়কে চলবে ঢাকামুখী পরিবহন

ছবি: নিউজ টাঙ্গাইল।

ফরমান শেখ- নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদে ঘরমুখো মানুষদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার লক্ষ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক প্রস্তুত। মহাসড়কে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের যাতে যানজটে ভোগান্তির শিকার না হতে হয় সে লক্ষ্যে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়ক। এবার ঈদে গাড়ির চাপ বেশি থাকলে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে ওয়ানওয়েতে যানবাহন চলাচল করবে।

এ মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই লেন হওয়ায় যানজটোর কারণে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঢাকাগামী যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হয়ে গোলচত্বর দিয়ে ভূঞাপুর হয়ে এলেঙ্গা প্রবেশ করবে। এতে করে যানজট অনেকটা কমে যাবে।

মহাসড়কে যানজট এড়াতে শুধু উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের জন্য সড়কের এ অংশটি বরাদ্দ থাকবে। এতে করে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কের বিপরীত ২৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘুরে এলেঙ্গায় প্রবেশ করে চার লেন সড়কের সুবিধা পাবেন উত্তরবঙ্গের ঢাকাগামী যানবাহনগুলো।

এ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহনগুলো যাতে কোন ধরণের সমস্যা বা ভোগান্তিতে না পড়েন তার জন্য এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পুলিশ।

আঞ্চলিক মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু (পাথাইলকান্দি), সিরাজকান্দী, মাটিকাটা, গোবিন্দাসী স্কুল রোড, ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবৈধভাবে সড়ক দখল করে রাখা ট্রাক, পিকআপ, ইট ও বালু সরিয়ে ফেলেছে পুলিশ সদস্যরা।

এদিকে, যানজট নিরসনে এ মহাসড়কের সড়কের টাঙ্গাইল অংশের ধেরুয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৪টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। এসব সেক্টরে ৭১০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়াও তারমধ্য ১০০ জন এপিবিএন সদস্যও থাকবে মহাসড়কে।

তারমধ্য ধেরুয়া থেকে ঘারিন্দা পর্যন্ত ১ নম্বর সেক্টর, ঘারিন্দা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ২ নম্বর সেক্টর, এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৩ নম্বর সেক্টর এবং এলেঙ্গা থেকে কালিহাতী লিংক রোড ও ভূঞাপুর লিংক রোড পর্যন্ত ৪ নম্বর সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করা সদস্যরা ৪ টি সেক্টরে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কোথাও যানজটে সৃষ্টি হলে তা দ্রুত নিরসনের জন্য কাজ করে যাবেন। এ ছাড়াও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো যাতে তাৎক্ষণিক সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া যায় সেদিকেও খেয়াল রাখবেন তারা।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঢাকা থেকে যানবাহনগুলো চারলেন সড়কের সুবিধায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু এলেঙ্গার পর থেকে সেতু পর্যন্ত সড়ক দুইলেন। চারলেনের যানবাহন দুইলেন সড়কে প্রবেশের সময় যানজটের সৃষ্টি হয়।

এবার এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজার কাছে গোলচত্বর পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার একমুখী (ওয়ানওয়ে) করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে এই সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলবে। আর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন সেতু পার হওয়ার পর বিকল্প সড়ক হিসেবে গোলচত্বর থেকে উত্তর দিকে ভূঞাপুর হয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসবে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য যাত্রীরা যানজটে আটকা পড়লে মহাসড়কের পাশে পেট্রোলপাম্প, হোটেল রেস্তোরাগুলোতে যাতে শৌচাগার ব্যবহার করতে পারে সে জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের পাশে পাম্প, রেস্তোরা নেই। তাই ওই অংশে ২৫টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া ইফতার ও সেহরিতে যাতে অসুবিধা না হয় সে জন্য এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত যানজটে আটকে পড়া মানুষের মাঝে পানি, শুকনা খাবার সরবরাহের জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যানজটে আটকে থাকা মানুষের ভোগান্তি লাঘবেও কাজ করে থাকে পুলিশ। মহাসড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে ৬১০ জন পুলিশ সদস্য ও ১০০ জন এপিবিএন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।

এছাড়া উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের জন্য সড়কের সহযোগিতায় এলেঙ্গা থেকে দক্ষিণ দিক দিয়ে বিকল্প রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে। যানজট যাতে না হয় এজন্য সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version