ঘাটাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আশ্রয়ণকেন্দ্রের বাসিন্দারা এবার ঈদুল আজহার কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে গ্রামের মানুষের কোরবানিকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে না ওঠায় কোরবানির সামাজিক বণ্টনের মাংস পাননি তারা।
আশ্রয়ণের বাসিন্দারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা যে গ্রাম থেকে এসেছেন, সেখানে তাদের একটি গ্রামভিত্তিক সমাজ ছিল। সেখানে প্রতি কোরবানির ঈদে সামাজিক বণ্টনের মাংস পেতেন। আশ্রয়ণে চলে আসায় তারা গ্রামের ওই সমাজ থেকে বাদ পড়েছেন। আগের সমাজ থেকে কোরবানির মাংসের সামাজিক ভাগ না পাওয়ায় এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের গ্রামের মানুষের নতুন সমাজ গড়ে না ওঠায় তাদের কপালে কোরবানির মাংস জোটেনি। ফলে ঈদের দিন তাদের কোরবানির মাংসবিহীন ঈদ কাটাতে হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১২টি স্থানে স্থাপিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৭১টি ঘরে ঠাঁই হয়েছে সমসংখ্যক পরিবারের। এবারের ঈদে অধিকাংশ বাসিন্দার ক্ষেত্রেই কোরবানির মাংসের সামাজিক বণ্টন না হওয়ার এমন ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার চরবীরসিংহ গ্রামের হাসমত আলী ঘর পেয়েছেন গৌরীশ্বর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। হাসমত জানান, আশ্রয়ণে আসার আগের তিনি ওই গ্রামের সমাজে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আশ্রয়ণে চলে আসায় ওই গ্রামের সামাজিক বণ্টন থেকে তার নাম কেটে দিয়েছে গ্রামবাসী। আশ্রয়ণেও কোনো গ্রামভিত্তিক সমাজ নেই। তাই কোরবানির সামাজিক বণ্টনের মাংস তার ভগ্যে জোটে না। বিকেল পর্যন্ত কোরবানির মাংসের আশায় বসে থেকে অবশেষে বাজার থেকে মুরগি কিনে এনে ছেলেসন্তানদের খাওয়ান। আশ্রয়ণের বাসিন্দা হাসিনা বেগম, আব্দুল মালেক, আসাদুল ইসলামসহ আরো অনেকে হাসমতের মতো একই রকমের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সন্ধানপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর আশ্রয়ণে আসা অনেকেই সমাজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ সমস্যা দূর করতে হলে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের গ্রামের সমাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ জন্য সবারই উদ্যোগ নিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিয়া চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়। আশ্রয়ণে বাসিন্দাদের আশ্রয়ণকেন্দ্রিক গ্রামের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

