Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণের পর নারী মেম্বরকে…

বগুড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য (মেম্বর) রেশমা খাতুন (৩৮) হত্যার জট খুলতে শুরু করেছে। কৌশলে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন লতিফ শেখ (৬০)। পরে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে হত্যার পর তার লাশ ভাটার পাশে রেখে পালিয়ে যান।

র‌্যাব সদস্যরা ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের মুল হোতা আবদুল লতিফ শেখকে (৬০) মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেন। শুক্রবার র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার সোহরাব হোসেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেন।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত-৩ আসনের (ওয়ার্ড নং-৭, ৮ ও ৯) সদস্য রেশমা খাতুন গোবিন্দপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসার জন্য শেরপুরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি নিখোঁজ হন।

২২ সেপ্টেম্বর কুড়িগাঁতি গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে ধানক্ষেত থেকে তার গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের ভাই ধুনট থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যায় জড়িতকে শনাক্ত করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ মার্চ মুন্সীগঞ্জ থেকে ধুনটের মৃত আহাদ বকশের ছেলে আবদুল লতিফ শেখকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইউপি সদস্য রেশমা খাতুনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

লতিফ জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাত মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিকটিম রেশমা খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তিনি তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পরিষদ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রেশমার সঙ্গে দেখা করেন।

তিনি জানান, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর লতিফ কৌশলে রেশমাকে ধুনটের মথুরাপুরের একটি ইট ভাটার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। গল্পের সময় কৌশলে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ভিকটিম রেশমা বাধা দিলেও লতিফ তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার ইউপি সদস্য আইনের আশ্রয় নিলে জেল খাটতে হবে। তাই তিনি গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ ভাটার পাশে রেখে পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, নিজেকে সন্দেহমুক্ত রাখতে লাশ উদ্ধার ও দাফনের কাজে অংশগ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। পরবর্তীতে গ্রেফতারের আশংকায় আবদুল লতিফ নিজ এলাকা ত্যাগ করে নোয়াখালীতে গিয়ে শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর মুন্সীগঞ্জে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

র‌্যাব সূত্র আরও জানায়, লতিফ বাড়িতেই ফার্নিচার তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার বিরুদ্ধে গত ২০০৯ সালে বগুড়ার একটি ধর্ষণ মামলায় সাত মাস কারাভোগ করেছেন। মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে ধুনট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version