শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৪
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে গত ১০ মাসে ৫২ খুন ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধ ২৫৮

টাঙ্গাইলে গত ১০ মাসে ৫২ খুন ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধ ২৫৮

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় চলতি বছরের গত ১০ মাসে ৫২টি হত্যাকান্ড এবং ধর্ষণসহ নির্যাতন ও অন্যান্য ২৫৮টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে । এ সকল অপরাধের বেশিরভাগই ছিল- পারিবারিক, অর্থ, জমিজমা এবং মাদক সংক্রান্ত বিরোধ। ওই ৫২টি হত্যাকান্ডের মামলায় আসামী করা হয়েছে ১২৮ জনকে। এদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ৬৭ জন, পলাতক রয়েছে ৬১ জন। হত্যাকান্ডের মামলা তদন্তাধীন থাকায় বেশিরভাগ মামলায়ই এখনো চার্জশীট দেয়া হয়নি। ফলে বিচারাধীন হয়ে ঝুলে থাকা ওই সকল হত্যাকান্ডের দোষীদের বিচারের দাবিতে প্রায় সময় বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করছেন নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসীরা। অভিযোগ ওঠেছে গ্রেফতারের পরেও মামলার চার্জশীট তৈরী না হওয়ায়, আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে নিহতদের পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে অনেক অপরাধী। আগের চেয়ে তুলনামুলক টাঙ্গাইলে অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে। হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানী ও মাদকসহ নানা অপরাধ এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধ বিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীরা এমন পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখলেও সরকারি কৌশুলীরা তা মানতে নারাজ। তবে পুলিশ বিভাগ বলছেন এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের দাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে গত জুলাই মাসে নিজ গৃহে খুন হন শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা রাণী দাস। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের কোন সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। নিহত অনিল কুমার দাসের ছেলে নির্মল কুমার দাসের অভিযোগ আমার দুই চাচা সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে জেল হাজতে থাকলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন সুনির্দিষ্ট আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে মামলার তেমন কোন অগ্রগতিও হয়নি। দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলে গৃহবঁধূ নুপুর হত্যাকান্ডের কুল-কিনারাও করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষরা উল্টো মামলা দিয়ে পরিবারকে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ গৃহবধূর শ্বশুর আশোক আলীর। ৫২টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার মধ্যে বেশির ভাগ মামলাই রয়েছে তদন্তাধীন। দিনের পর দিন ঝুলে থাকায় মামলাগুলো ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। ওইসব মামলার অনেক অপরাধী জামিনে বের হয়ে স্বজনহারা পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ফলে নিজেদের জীবন নিয়েও শঙ্কিত রয়েছেন অনেক পরিবার।
এ ব্যাপারে মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট এস আকবর খান বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং আইনের বিভিন্ন ফাঁক-ফোকর থাকায় অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। ফলে অপরাধের পূণরাবৃত্তি ঘটে এবং প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে থাকে। যা প্রতিটি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্তরায়।
অপরাধ বিজ্ঞানী টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স (সিপিএস) বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সদ্বিচ্ছা, আইনের কঠোরতা, পুলিশের পেট্রোলিং এবং বিচার বিভাগের একাগ্রতায় অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মাহবুব আলম পিপিএম বলেন , আলোচিত সকল হত্যাকান্ডগুলো সুষ্ঠভাবে তদন্ত করছে জেলা পুলিশ। অভিযোগ নিশ্চিত হলেই দোষীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারপরও আইনের জটিলতায় অনেকেই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসছেন।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -