Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা

News Tangail

নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা। বর্তমানে জেলার ২৮৫টি ইটভাটার ১৫৮টিই অবৈধ। এসব ইটভাটার বেশিরভাগ কৃষি জমিতে ও বসতবাড়ী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে।

এতে করে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র, জমির ফসল হচ্ছেনা। এতে বৈধ ইটভাটাগুলো কিভাবে লাইসেন্স বা পরিবেশের ছাড়পত্র পেলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় ২৮৫টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে ১২৭টির। আর অবৈধ ইটভাটা আছে ১৫৮টি।

এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তিনটি ইটভাটারই ছাড়পত্র আছে। দেলদুয়ারে ইটভাটা ১টি অবৈধ ১টি বৈধ, কালিহাতীতে ১৩টির মধ্যে ৩টি বৈধ ১০টি অবৈধ, বাসাইলে ৯টির মধ্যে ২টি বৈধ ৭টি অবৈধ, ভূয়াপুরে ৬টির মধ্যে ১ বৈধ ৫টি অবৈধ, সখিপুরে ৮টির মধ্যে ৩টি বৈধ ৫টি অবৈধ, গোপালপুরে ৬টির মধ্যে ৩টি বৈধ ৩টি অবৈধ, মধুপুরে ২০টির মধ্যে ১টি বৈধ ১৯টি অবৈধ, নাগরপুরে ২২টির মধ্যে ১৩টি বৈধ ৯টি অবৈধ, ধনবাড়ীতে ২০টির ২টি বৈধ ১৮টি অবৈধ, মির্জাপুরে ১০৮টির মধ্যে ৭৬টি বৈধ ৩২টি অবৈধ, ঘাটাইলে ৬৮টির মধ্যে ১৯টি বৈধ ৪৯টি অবৈধ।

বেশীর ভাগ ইটভাটা অবৈধ ভাবে বছরের পর বছর ধরে চলছে। আর এইসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার জন্য টাঙ্গাইলে কর্মরত বিভিন্ন পরিবেশবাদি ও সামাজিক সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছে।

‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ এ লাইসেন্স ছাড়া কেউ ইটভাটা চালু করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও জেলার বৈধ এর চেয়ে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা বেশি। এ জন্য অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা দুই দণ্ডই হতে পারে।

এসব ইটভাটার কর্মকান্ডে জড়িতরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকটা দেখেও না দেখার ভান করে আছেন স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক গজের মধ্যে ইটভাটা। এগুলোতে প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হয়। তা ছাড়া বেশির ভাগ ইটের ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে কম উচ্চতার টিনের চিমনি। ইট ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বসতবাড়ী, কৃষি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই বেশিরভাগ ইটভাটা। কয়লা দিয়ে এসব ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও খরচ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেকেই নির্ভয়ে প্রকাশ্যেই পোড়াচ্ছে কাঠ। এতে বনভূমি ধ্বংস হয়ে পরিবেশের বিপর্যয় হচ্ছে। এসব ভাটা পড়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ও ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

গালা গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের গ্রামে চারটি ইটভাটা রয়েছে। প্রত্যেকটি ইটভাটাই বসতবাড়ি, কৃষি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে। এরা কিভাবে ছাড়পত্র পেলো।

এ গ্রামের উজ্জল মিয়া বলেন, ইটভাটার তাপে নারিকেল গাছের ফল ছোট হয়ে গেছে। গ্রামের মধ্যে থাকা ভাটায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের ফসলের। মাঝে মাঝে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন আসেন। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরপরই ইটভাটা আবার চালু হয়ে যায়।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর আমরা অনেক ইটভাটাকে জরিমানা করেছি, এ বছরও আমাদের অভিযান চলবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশে পাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা করা যাবে না। যে সকল ইটভাটা বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে আছে সেগুলোর ছাড়পত্রও বাতিল করা হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version