Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে ‘ধানের ভালো ফলনে কৃষকের স্বস্তি’

News Tangail

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতেও হয়েছে ভালো ফলন। এতে কৃষকের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ধানের খড়গুলোও বিক্রি হচ্ছে মোটা দামে। কৃষক অতিরিক্ত আয়ের জন্য দুই ফসলি জমিতে আবাদ করছেন তিন ফসলের। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানান, এবার ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উন্নত ধানের জাতসহ দেশীয় জাতের ধান চাষ হয়েছে। ফসল চাষে কৃষকদের দেয়া হচ্ছে পরামর্শ। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারিভাবে দিচ্ছি নানা প্রণোদনা।

সরেজমিন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদিত ধান কাটতে শুরু করেছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কৃষক-কৃষাণীরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত। উপজেলার নিম্নাঞ্চল মুশুদ্দি, বলিভদ্র, বীরতারা ও পাইস্কাতেও হয়েছে ধানের বাম্পার ফলন। বেশির ভাগ জমিতেই চাষ করা হয়েছে উন্নত জাতের ধান। বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ২২ থেকে ২৫ মণ। উপজেলায় বিগত কয়েক বছরে গবাদি পশু পালন বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘা ধানের খড় বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায়।

এ ছাড়াও দেখা গেছে, দুই ফসলি জমিতে অতিরিক্ত অর্থ আয়ের জন্য সবজি চাষ করে তিন ফসলি জমি করা হয়েছে। বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় ধান কাটার পরপরই লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন জাতে সবজি।

উপজেলার মুশুদ্দির কৃষক মিজানুর রহমান শিবলী জানান, আমি আমার দুই ফসলির জমিকে তিন ফসলিতে রূপান্তর করেছি। এই পদ্ধতি এখন উপজেলার অনেক কৃষকেরাই গ্রহণ করছেন। রোপা আমনের পরপরই জমি প্রস্তুত করে অল্প সময়ে আসা বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হচ্ছে যাতে করে বোরো আবাদে বিঘ্ন না হয়।

কৃষক আবু বকর জানান, এ বছর অমি তিন বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ধান চাষ করেছি। ফলনও খুবই ভালো হয়েছে। বাজারে প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। ধানের খড় বিঘাপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বীরতারা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই জমিতে নানা জাতের শাকসবজি লাগিয়েছি। প্রতিদিনই তা বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত রোজগারও হচ্ছে। এ টাকা সংসারে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার কাজে ব্যয় করা যাচ্ছে।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘যেকোনো ফসল সঠিকভাবে চাষ করতে মাঠে যেয়ে কৃষকদের ভালো ফলনে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যেসব জমিতে তিন ফসল চাষ করা যায় এ জন্য নানা ধরনের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের নানা ধরনের সেবা প্রদান করছি। কোনো ফলস কখন চাষ করতে হবে কৃষকদের জানাচ্ছি। এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের সরকারিভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে সহযোগিতাও করা হচ্ছে।’

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version