শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০২৪
Homeবিবিধটাঙ্গাইলে পথে বসার উপক্রম অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের

টাঙ্গাইলে পথে বসার উপক্রম অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: করোনার প্রভাবে চরম চালক সংকটে পড়েছেন টাঙ্গাইলের অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। এর ওপর রয়েছে রোগী সংকট। ফলে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত এই ব্যবসায় নেমেছে চরম বিপর্যয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, জেলা শহর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রোগী পরিবহনে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা ৩৬টি হলেও টাঙ্গাইল জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত গাড়ির সংখ্যা ২৮টি। ঢাকা, ময়মনসিংহ আর সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য জেলা প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়া ৪ হাজার টাকা। এছাড়াও মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয় চালকদের। এরপরও রয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ আর সিরাজগঞ্জে যাতায়াত খোরাকি ৫০০ আর জেলার ভেতর ২০০ টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডসহ আশপাশে দাঁড়ানো রয়েছে প্রায় ২০টি অ্যাম্বুলেন্স। এ সময় কথা হয় অ্যাম্বুলেন্স চালক মনিরের (২৮) সঙ্গে।

মনির বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন তিনি। তবে করোনার কারণে প্রায় মাস খানেক সময় অ্যাম্বুলেন্স চালানো বন্ধ রাখতে হয় তাকে। আক্রান্তের শঙ্কা আর প্রতিবেশীদের চাপেই বন্ধ ছিল তার অ্যাম্বুলেন্স চালানো। এ কারণেই বেশির ভাগ চালক অ্যাম্বুলেন্স চালানো থেকে বিরত থাকছেন। অবশেষে পেটের দায়ে আবার অ্যাম্বুলেন্স চালাতেই আসতে হয়েছে তাকে। চলতি মাসে আবার অ্যাম্বুলেন্স চালানো শুরু করলেও যাত্রী নেই। গত সাতদিনে একটি রোগীও পাননি তিনি। এতে তার সংসার ব্যয় চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অ্যাম্বুলেন্স চালানো বাদ দিয়ে অন্য পেশায় যোগ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অ্যাম্বুলেন্স চালক আমিনুল ইসলাম (৩০) বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে এ পেশায় আছি। কিন্তু বর্তমান সময়ের মতো এমন দুর্দিন কখনও দেখিনি। গত ১০ দিনে একটি যাত্রীও পাননি তিনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে মালিক আর চালকদের না খেয়ে মরতে হবে। যদিও অ্যাম্বলেন্স চালকদের জন্য মাসিক বেতন নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা রোগী পরিবহন করতে না পারলে চালকদের বেতনই বা দেবেন কীভাবে।

তিনি আরো বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালানোর কারণে প্রায় দুই মাস ধরে বাড়িছাড়া তিনি। করোনার ভয়ে এলাকার মানুষ তাকে বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। এ কারণে বউ আর বাচ্চাদের রেখে অ্যাম্বুলেন্সে রাতদিন কাটছে তার।

অ্যাম্বুলেন্স মালিক ফজল মিয়া বলেন, করোনার শুরু থেকে চালক আর যাত্রী সংকটে রয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। এ কারণে চরম দুর্দিন আর দুর্দশার মধ্য দিয়ে কাটছে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত এই ব্যবসায়ীদের পারিবারিক জীবনযাপন। বিশ্ব মাহামারির কবলে পড়ে পথে বসার পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছেন তারা। একটি অ্যাম্বুলেন্স নামাতে তাদের কমপক্ষে ৭-৮ লাখ টাকা লেগেছে। স্বাভাবিক সময় মাসে প্রতিটি গাড়ির উপার্জন যেখানে ছিল কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, এখন সেই গাড়ির উপার্জন এসে দাঁড়িয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে চালকের বেতন আর খোরাকির টাকা। আবার প্রতিটি গাড়ির পেছনে মাসে আনুষঙ্গিক খরচ কমপক্ষে আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, তার মতো শুধু অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসেছেন। এত টাকার অ্যাম্বুলেন্স খাটিয়ে যেখানে পরিবারের খরচই জুটছে না সেখানে চালকদের বেতন আর গাড়ির আনুষঙ্গিক খরচ জুটাবেন কীভাবে। ব্যবসায়ীদের এ বিপর্যয় রোধে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর বলেন, টাঙ্গাইলের অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম যাত্রী সংকট। বেশ কিছুদিন চালক সংকট থাকলেও এখন কিছু কিছু চালক পাওয়া যাচ্ছে। তবে গাড়ি না চললে চালক দিয়ে কী হবে। এখন মালিক আর চালকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -