নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বহুল আলোচিত পাকিস্তানী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মূল আসামী ধর্ষক আল-আমিন (২০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোপালপুর আমলী আদালতে তিনি ধর্ষণের কথা শিকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের বিচারক আকরামুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে আল-আমিনের ভাইকেও আদালতে হাজিরা করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এই দুইজনের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত। পুলিশ তাদের ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়েছিল।
সোমবার (২৯এপ্রিল) রাতে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালপুর থানার এসআই সাদিকুর রহমান বলেন, গত (২৪ এপ্রিল) গ্রেফতারকৃত আল-আমিন এবং তার ভাই সুমনের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে রিমান্ডে এনে তাদের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে আল-আমিন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পরে এই দুইজনের রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ায় তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। বিকেলে আল আমিন দোষ শিকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে বিচারক তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এদিকে ধর্ষিত পাকিস্তানী ধর্ষিত কিশোরীকে দোভাষির মাধ্যমে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নওরিন মাহবুবের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, গত (১৬ এপ্রিল) রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে কাকার বাড়ি থেকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায় সে। এরপর বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তার ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় গত (১৭ এপ্রিল) ধর্ষক আল আমীন, তার বাবা আবুল হোসেন ও মা আনোয়ার বেগমকে আসামী করে ওই কিশোরীর মা গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
গোপালপুর থানা পুলিশ গোপন সুত্রে খবর পেয়ে গত (১৮ এপ্রিল) ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। পরে গত (২৩ এপ্রিল) কুড়িগ্রাম থেকে আল আমিনকে গ্রেফতার করে র্যাব সদস্যরা। এরপর গত (২৪ এপ্রিল) আসামী আল আমীনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রেরণ করেন।

