নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলার সূর্য সন্তানরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করে টাঙ্গাইল।
মুক্তিযুদ্ধের কোম্পানি কমান্ডার বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রথম টাঙ্গাইল সদর থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। সেদিন জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত ছিলো সারা জেলা।
জেলা প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পৌরসভা ও জেলা আওয়ামী লীগ উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দিবসটি পালিত হচ্ছে।সকালে ছিলো শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, এরপর কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন ও শোভাযাত্রা। সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি) জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক প্রমুখ।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম জানান, টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে যাওয়ায় ঢাকা থেকে পাকবাহিনী ৩ এপ্রিল টাঙ্গাইলে আসার চেষ্টা করে। পথে মির্জাপুর উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচড়া নামক স্থানে মুক্তিবাহিনী অগ্রগামী পাকবাহিনীর কনভয়কে প্রতিরোধ ব্যূহ রচনা করে। সেদিনের প্রতিরোধ যুদ্ধে ২৩ জন পাকসেনা নিহত হয়। এরপর স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় হানাদার বাহিনী ওই এলাকায় পাল্টা আক্রমন চালায়। এতে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১০৭ জন বাঙালি গণহত্যার শিকার হয়।
হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইল শহরে প্রবেশ করলে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধারা নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ ও সংগঠিত হতে থাকে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়। সখীপুর উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকা বহেড়াতৈলে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কাদেরিয়া বাহিনী গঠন করা হয়। শুরু হয় বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনীর সাথে একের পর এক যুদ্ধ। চারদিক থেকে আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
তিনি জানান, ডিসেম্বরের শুরুতে সীমান্ত থেকে কোণঠাসা পাক সেনারা দুর্বল হয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ৮ ডিসেম্বর প্রায় পাঁচ হাজার পাকসেনা এবং সাত হাজার রাজাকার-আলবদর টাঙ্গাইলে অবস্থান করে। খান সেনাদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য যমুনা নদী পথে পাঠানো হয় সাতটি জাহাজ ভর্তি অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
কাদেরিয়া বাহিনী গোপনে এই খবর পেয়ে কমান্ডার হাবিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেয় জাহাজ ধ্বংস করার জন্য মাইন পোতার কাজে। জীবন বাজি রেখে ভূঞাপুরের মাটিকাটা নামক স্থানে ঘটানো হয় জাহাজ বিস্ফোরণ। দুটি জাহাজে দুইরাত দুইদিন ধরে চলতে থাকে অনবরত বিস্ফোরণ। বাকি জাহাজগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে।
৮ ডিসেম্বর পরিকল্পনা করা হয় টাঙ্গাইল আক্রমণের। মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সংর্ঘষ হয় পাক সেনাদের পুংলি নামক স্থানে। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে পাক সেনারা টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারদিক থেকে সাড়াশি আক্রমণ চালিয়ে পাকসেনাদের টাঙ্গাইল থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয় কাদেরিয়া বাহিনী।
১০ ডিসেম্বর বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের উত্তরে কালিহাতী উপজেলার পৌলিতে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর প্রায় দুই হাজার ছত্রীসেনা অবতরণ করায় হানাদারদের মনোবল একেবারে ভেঙ্গে পড়ে। ১০ ডিসেম্বর রাতেই কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি টাঙ্গাইল থানা দখল করে সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ ও খন্দকার আনোয়ার টাঙ্গাইল পৌঁছান। আসেন বিগ্রেডিয়ার ফজলুর রহমান। ১১ ডিসেম্বর ভোরে কাদেরিয়া বাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজ আক্রমণ করে দখলে নেন এবং শহরকে শত্রুমুক্ত করেন। এরপর তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। মুক্তির স্বাদ পেয়ে উল্লসিত মানুষ রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইল শহর।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
