শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০২৪
Homeজাতীয়টাঙ্গাইলে শিক্ষিত যুব সমাজের চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবী

টাঙ্গাইলে শিক্ষিত যুব সমাজের চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবী

নাজমুল হোসেন : দেশের উচ্চ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের গত অর্ধ যুগেরও বেশী সময়ের পুরনো দাবী চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো। কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ (বাসাছাপ) এর ব্যানারে দেশব্যাপী এই আন্দোলন চলছে। সোমবার টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে এই দাবীতে মানব বন্ধন, অবস্থান ও বিক্ষোভ র‍্যালি কর্মসূচী পালন করে টাঙ্গাইল জেলা কমিটি। সকাল ১১ ঘটিকায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে পরিচালনা করেন তারেক মিয়া এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন সভাপতি মোঃ এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান। লিফলেট, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শতশত ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী স্থায়ী হওয়া এই সমাবেশে বয়স বৃদ্ধি করণের দাবী নিয়ে উপস্থিত অনেকেই কথা বলেন।

সভাপতি মোঃ এনামুল হক বলেন, চাকরীতে আবেদনের বয়সসীমা দীর্ঘদিন ধরে ৩০ এর ভিতরে সীমাবদ্ধ রেখে দেশটাকে বেকারের কারখানা বানানো হচ্ছে। যার কারণে সরকারী ছাড়াও বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরও আজ উচ্চ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ৩০ এর পরে নিয়োগ দিচ্ছে না। পুরাতন ও বিদ্যমান সেশন জটের ভয়াবহতার কথাও তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, আমলাতান্ত্রিক ও অন্যান্য আভ্যন্তরীণ জটিলতার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক মতামতকে আমলে নিয়ে অতিশীঘ্রই চাকরীতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর আহবান জানান।

সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বলেন, বহির্বিশ্বের কোথাও যেমন চাকরীতে প্রবেশের বয়সসীমা নেই তেমনিভাবে আমাদের দেশেও এই ক্ষেত্রে উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। তিনি তার ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তিনি ২০১০-২০১১ সেশনের ছাত্র হয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দেন ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে আর পাস করে সনদ হাতে পান ২০১৫ সালে। তাই এই হারানো সময় ফিরে পাওয়া তাদের ন্যায্য অধিকার ও যৌক্তিক দাবী। এছাড়াও যুব লীগের চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুক চৌধুরীর কথার সাথে তাল মিলিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেকারত্বের কারণে প্রেমিকা তার প্রেমিককে প্রত্যাখ্যান করছে। এই হতাশার কারণে আত্মহত্যার পরিমান বেড়ে যাচ্ছে। এই সব সমস্যার সমাধানে অনতিবিলম্বে এই দাবী বাস্তবায়নের জোর দাবী জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আঃ মালেক বলেন, যুব সমাজ দেশের দেশের চালিকা শক্তি ও আগামির হাতিয়ার। যুব সমাজকে ৩০ এর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখা অনুচিত। কোটা প্রথা কমিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া উচিৎ। তাছাড়া গড় আয়ু রেকর্ড সংখ্যক পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলায় পরিণত করতে হলে দেশকে অবশ্যই ক্ষুধামুক্ত, শোষণমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও বেকারমুক্ত করতে হবে। কিন্তু তার পথে প্রধান বাঁধা উচ্চ শিক্ষিত যুব সমাজকে দমিয়ে রাখা। তাই তিনি চাকরিতে প্রবশনারি ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানোর জন্য সরকার বরাবর আহবান জানান।

সবশেষে তারা র‍্যালি যাত্রার মাধ্যমে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে কর্মসূচী শেষ করে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, এভাবে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় এই দাবীতে কর্মসূচী পালন করে দেশব্যাপী অনশনের ডাক দেয়া হবে।

এছাড়াও সেখানে আশপাশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হ্যাপি আক্তার, রুনো, আশা, মাঈন উদ্দিন, আঃ রশিদ, নাঈম হোসেন, নুরুল হুদা, সাইফুল, হাফিজুর রহমান, স্বপন, নাহিদ প্রমুখ।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -