নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের বাসাইলের প্রবাসীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩৭) ও মধুপুরের মো. আ. কাদের (৪০) নামে দুটি হত্যা মালমার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।
বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ১ জানুয়ারি বাসাইলের নথখোলা গ্রামের প্রবাসী ধলা মিয়ার স্ত্রীকে নিজ ঘরে হাত-পা বেধে পায়ের রগ কেটে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে নিহত মনোয়ারা বেগমের সহধর ভাই মো. আব্দুল কাদেরের স্ত্রী তাছলিমা খাতুন খুকি (২৮) বাদি হয়ে ১ জানুয়ারি বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ।
মামলার ২২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিনের অফিসার ইনচার্জ শ্যামল কুমার দত্তকে মামলাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করে। পরে হত্যা মামলাটি ডিবি দক্ষিণের এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এসআই ওবাইদুর রহমান ও এসআই আলমগীর কবির তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসাইলের কাশিল পশ্চিম পাড়া গ্রামের মো. সোলায়মানের ছেলে মো. রহিম মিয়া (২৬), মামলার বাদি তাছলিমা খাতুন খুকি (২৮), মামলা বাদির সহধর ভাই টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়া গ্রামের মো. আল আমিন (১৯)কে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিন জনই হত্যার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে। পরে ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন আসামীরা।
স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুল আলম, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মো. আমিনুল ইসলাম। লিপিবদ্ধ করা স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি ৩১ ডিসেম্বর রাতে ফিজআপের সাথে ঘুমের ঔষধ খাওয়াইয়া মনোয়ারা বেগমকে দুর্বল করে তাহার নিজ ঘরেই হাত-পা বাধিয়া ধারালো চাকু দিয়া তার পা ও হাতের রগ কেটে এবং জবাই করিয়া তাকে হত্যা করে অভিযুক্ত আসামীরা।
হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মো. রহিম মিয়ার একটি রক্ত মাখা প্যান্ট, এক জোড়া জুতা ও হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক সেবন, পরকীয়া ও টাকা আত্মসাতের জন্যই এই হত্যা কান্ডটি হয়েছে বলে মনে করেন পুলিশ সুপার।
অপর দিকে গত ১০ জানুয়ারি মধুপুর বন থেকে মো. আব্দুল কাদের মিয়ার পুরানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই মো. মোবারক হোসেন ১৩ জানুয়ারি মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন ক্লু খুজে পাচ্ছিল না।
২৩ জানুয়ারি ওসামন গণি নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেন মধুপুর থানা পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী আবু তালেব ও সাইদ রহমানকে গ্রেফতার করলে তিন জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দেয়।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
