বুধবার, জুলাই ১৭, ২০২৪
Homeআন্তর্জাতিকটাঙ্গাইল-০৮ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক, চিন্তা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী...

টাঙ্গাইল-০৮ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক, চিন্তা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে ঘিরে

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইল ৮ বাসাইল-সখীপুর আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ও মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের একক অবস্থান এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন দলীয় প্রার্থী। বাসাইল উপজেলার ৬টি ও সখীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভা নিয়ে এ আসন গঠিত। ইতিমধ্যে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তাদের পক্ষে সমর্থন পাওয়ার জন্য পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়েও জানান দিচ্ছেন তারা। মসজিদ মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে দান করে যাচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন নানা অনুষ্ঠানে।

আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উঠান বৈঠক করে সরকারের নানা উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরছেন । তবে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাদের তেমন কোন গণসংযোগ করতে দেখা যায় না। নিজেদের উপস্থিতির কথা জানান দিতে মাঝে মাঝে দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা। অপরদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজ নিজ সমর্থন পাওয়ার জন্য সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন । জনসভা ও সেমিনার করে দলকে আবার ক্ষমতায় আনার আহŸান জানাচ্ছেন তারা। তারা প্রতি নিয়ত শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার নানা প্রতিশ্রæতি দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দেয়ার আহŸান করে যাচ্ছেন।

এক্ষেত্রে বিএনপি নেতারা রয়েছেন দিধাদন্ধে । দলীয় সিদ্ধান্তের উপর তাকিয়ে আছেন তারা । নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও তত্ত¡াবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারেন তাই ঢিলেঢালা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা । তবে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে সরকারের সমালোচনা করে মিটিং মিছিলে অংশ নিচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এড. আহমেদ আজম খান, তিনিই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে দলের একক প্রার্থী বলে তার সমর্থকরা মনে করেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির অবস্থান শক্ত না থাকলেও নির্বাচন অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বাইরে এ আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। আর এখানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নিজেই প্রার্থী । তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ইউনিয়ন ও উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে । জামাত বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন কোন গণসংযোগ করতে দেখা যায় না এখানে ।

আলোচিত এ আসনে ১৯৮৬ সালে প্রয়াত অধ্যাপক শওকত মোমের শাহজাহান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন । ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম । ৯১ তে বিএনপি’র প্রার্থী হূমায়ুন খাঁন পন্নীর কাছে নির্বাচনে হেরে যান তিনি। বিএনপির সরকারের ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ূন খাঁন পন্নী। তখন থেকে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি শুরু হয় । ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে সরকারের বনিবনা না হলে ১৯৯৯ সালে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি এবং নিজেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে দল গঠন করেন । অপর গ্রুপের নেতৃত্ব ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের নেতা প্রয়াত কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান। তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে এ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মারা যাবার পর তার পুত্র অনুপম শাহজাহান জয় দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের । বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে তার দ্ব›দ্ব এখন চরমে। এরফলে এ দুটি উপজেলায়ই দলীয় এবং জাতীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করা হয়। নিয়মিত সভা-সমাবেশ করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম আর অভিযোগ তুলে ধরছেন । গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আত্মীয়দের মনোনয়ন দিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় মুখেও তিনি । আত্মীয়দের মনোনয়ন দেওয়ায় সখীপুরে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে বলেও দাবি উপজেলা আওয়ামী লীগের । তবে ভিপি জোয়াহেরের সমর্থকরা মনে করেন এবারও অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এবং তিনিই বিজয়ী হবেন।

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের সাথে আরও মনোনয়ন চাইবেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার, শওকত মোমেন শাহজাহানের পুত্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অনুপম শাজাহান জয়, ডেসকোর পরিচালক, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ।

এ ব্যাপারে ভিপি জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, আমি মনোনয়নপত্র কিনেছি। আগামী নির্বাচনে আমিই দলীয় মনোনয়ন পাবো। বিগত দিনে আমার কাজ ও বর্তমান সময়ের কাজ বিবেচনা করে আমাকেই দল মনোনয়ন দেবে বলে আমি মনে করি এবং বিশ্বাসও করি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন আলহাজ্ব শওকত শিকদার তিনি বলেন, সখীপুর- বাসাইলের জনগণ পরিবর্তন চায়। আমি ২০১৮ সালেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম এবারও মনোনয়নপত্র কিনেছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আশা করি আমি বিজয়ী হবো । তাই এবার আমরা দুই উপজেলার অবহেলিত আওয়ামী লীগের পক্ষে , বর্তমান এমপি কে বাদ রেখে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো । এবারও নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে এবং শেখ হাসিনা আবারো সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হবেন এই বিশ্বাস আমার।

এ ব্যাপারে সাবেক এমপি অনুপম শাজাহান জয় বলেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমিও মনোনয়ন কিনেছি। আমার সময় সখীপুর ও বাসাইলে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমার বাবা চার বারের এমপি প্রয়াত অধ্যাপক কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহানের আমলেও দুই উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল । আমি এখনও মানুষের পাশে আছি ভবিষ্যতেও থাকবো। বাসাইল সখীপুরের সকল মানুষই আমাকে ভালবাসে। আশাকরি দল এবার আমাকেই মনোনয়ন দিবে।

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ বলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ দুই উপজেলায় সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত এলাকার মানুষের সাথে গণ সংযোগ করে যাচ্ছেন। এর আগেও তিনি তিনবার মনোনয়ন পত্র কিনেছিলেন এবারও তিনি মনোনয়ন কিনেছেন।

অপর দিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে একক ভাবে যার নাম শুনা যাচ্ছে তিনি হলেন তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট আহমেদ আজম খান।

জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন দলটির কেন্দ্রিয় নেতা মোঃ রেজাউল করিম রেজা এবং জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজমুল হাসান রেজা । জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করতে চান কামালিয়াচালা ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ফজলুল হক এবং চরমোনাই পীরের পাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান মওলানা আব্দুল লতিফ ।

এদিকে আওয়ামী লীগের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। তিনি আওয়ামী লীগের জোটে অথবা আওয়ামী লীগে যদি আসেন সে ক্ষেত্রে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দলীয় মনোনয়ন বা জোট গত সমর্থন পাবেন বলে ধারণা করছেন তারা। এতে বাড়া ভাতে ছাই পড়ার সামিল। এনিয়ে মহা চিন্তায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বঙ্গবীর তাঁর দলকে সংঘটিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন এবং উপজেলা কমিটি করে যাচ্ছেন। দলটির কর্মী এবং সমর্থকদের দাবি আগামী নির্বাচনে এ আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম জয়ী হবেন।

এ দুটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জানা যায়, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কে ঘিরেই আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হিসাব কষছেন আওয়ামী লীগ এবং সাধারণ ভোটাররা। ভোটাররা মনে করছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে রয়েছে এ এলাকার মানুষের গভীর সম্পর্ক। নিয়মিত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের জোটে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন তিনি ।

 

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -