Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

তিনি কী পাগলি না অন্যকিছু!

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: নাম তার ববিতা। সবাই ডাকেন পাগলি ববিতা। ৩০ বছর ধরে এই শহরের অলিগলিতে তার বসবাস। জীবনকষ্টের সীমাহীন যন্ত্রণা সয়ে আসছেন তিনি। রাস্তার ধারের দোকানপাটের সামনের খালি জায়গায় তিনি রাত পার করেন। শহরের কুকুরগুলো তার রাতের সাথী। যেখানে মানবতা বিপন্ন, সেখানে ববিতার অনন্য ভালোবাসা এই শহরের মানুষগুলোকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন নতুন এক বোধ ও দীক্ষা। এলাকার মানুষের বিস্ময়, তার মমত্ববোধ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। তিনি কী পাগলি, নাকি অন্যকিছু!

পৌষের কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে শীত নিবারণের বস্ত্র নেই তার শরীরে। কদিন ধরে শীত বেশি। তাই কুকুরকে নিজের পড়নের কাপড়ের এক অংশ দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন ববিতা। বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে অন্যরা তাড়িয়ে দিলেও ববিতার কাছে তারা পায় মাতৃস্নেহের পরম মমতা। এলাকায় সে ববিতা পাগলি হিসেবে পরিচিত। চলচ্চিত্রের ববিতার মতো দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা না থাকলেও এই ববিতার জনপ্রিয়তা রয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে। বাবা-মার দেওয়া নাম কী! এই ববিতা নামই বা কে দিয়েছে, এ তথ্য কেউ জানে না। প্রায় ৩০ বছর ধরে উপজেলার কলেজ মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ডে তাকে দিনরাত ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তার প্রকৃত বয়স কত, কোথা থেকে এসেছে, বাড়ি কোথায় তা সবার অজানা। ৩০ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। রাতের বেলায় ঘুমানোর জন্য সে বেছে নিয়েছে এনজিও নির্মাণ সংগঠনের বারান্দা।

ববিতা সবার অতি পরিচিত মুখ। দিনমজুর, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তি সবাই ববিতাকে আদর করে নাম ধরে ডাকে। কখনো ডাকে সাড়া দেয় আবার কখনো দেয় না। সবার দেওয়া খাবারও সে খায় না। আবার যাকে ভালো লাগে তার কাছ থেকে এটা-ওটা চেয়ে খান। খাবার হোটেলগুলোতে তার জন্য সব সময় দরজা খোলা থাকে। হোটেলগুলোতে ভেতরে কখনো গেলে তার প্রতি কী যে আদর-আপ্যায়ন তা আর বলে শেষ করা যায় না। কারো সঙ্গে কথা তেমন একটা বলে না। আর যাও দুই-একটা বলে তা বোঝা যায় না। তবে কী যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে। সড়কের দুই ধারের দোকানদাররা ববিতাকে অনেক ভালোবাসে, আদর করে। কারো দোকানে গেলে দোকান মালিক তার চেয়ার ছেড়ে দেন বসার জন্য। যতক্ষণ মন চায় দোকানে বসে থাকে। এর ভেতরে চলে আপ্যায়ন। চা এবং পান এ দুটোই সে বেশি ভালোবাসে। ব্যবসায়ীদের ধারণা ববিতা যেদিন দোকানে আসে তাদের বিক্রি নাকি বেড়ে যায়। তাকে সব সময় দেখেন এবং জানেন স্থানীয় এমন একজন মোহাম্মদ আলী জানান, ৩০ বছর ধরে সে এই এলাকাতে আছে কোনো দিন তাকে গোসল করতে দেখিনি। অথচ তার কাছে গিয়ে বসলে শরীর থেকে কোনো গন্ধ আসে না। ববিতা কোনো দিন অসুস্থও হয় না। ৩০ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। কলেজ মোড় এলাকার জেমি ফার্মেসির মালিক জামাল হোসেন বলেন, তার ভেতরে মনে হয় অলৌকিক কিছু আছে। আমার দোকানের কর্মচারী এক দিন চুরি করেছিল যা আমি নিজেও জানতাম না। কোথা থেকে যেন ববিতা এসে সেই কর্মচারীকে জুতা দিয়ে পিটানো শুরু করল। পরে চুরির বিষয়টি জানতে পারি।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমি তাকে এ এলাকায় দেখে আসছি। তার ভেতরে অলৌকিক কিছু থাকতে পারে। দোকানদাররা আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাকে দোকানে বসায় এবং সেবাযতœ করে। আবার সবার দেওয়া খাবার সে খায় না, যাকে ভালো লাগে তার কাছ থেকে চেয়ে খায়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version