মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪
Homeবিবিধদক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত জয়নালকে কালিহাতীতে দাফন সম্পন্ন

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত জয়নালকে কালিহাতীতে দাফন সম্পন্ন

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত জয়নাল আবেদীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ মে) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কালিবাড়ি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এরআগে ভোরে জয়নাল আবেদীনের লাশ গ্রামের বাড়ি কালিহাতীর টেরকীতে আনা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

সকাল নয়টায় কালিবাড়ি ঈদগাহ মাঠে জয়নালের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যন মাছুদুর রহমান বালা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর মামুদসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক অংশ নেন। এর আগে রোববার রাত ১০টায় জয়নালের লাশবাহী বিমান ঢাকা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে জয়নালের লাশ গ্রহণ করেন তার চাচা নাজিম উদ্দিন। নিহত জয়নাল আবেদীন (৩৫) টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার টেরকী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে স্থানীয় সময় গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় জয়নালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। জয়নালকে শেষবারের মত এক নজর দেখতে শতশত নারী-পুরুষ ভিড় করেছেন তাদের বাড়িতে। জয়নালের লাশ দেখে মা জাহানারা বেগম ও একমাত্র বোন জেসমিন বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। মা জাহানারা বেগম বারবার বুক চাপড়ে শুধু বিলাপ করছিলেন, ‘কে আমার এত বড় সর্বনাশ করল? যারা আমার সোনার টুকরা বাবারে মাইরা ফালাইছে, আল্লাহ তুমি তাদের বিচার কইরো। আল্লাহ তুমি আমার বাবারে মাফ কইরা দিও।’

নিহত জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আলম জানান, সরকারি সা’দত কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স পাশ করে ২০১০ সালে জয়নাল দক্ষিণ আফ্রিকা যান। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে নিজেই একটি মুদি দোকান দেন। দোকানের পাশেই একটি ঘরে থাকতেন তিনি। ৮ মে রাতে কাজ সেরে জয়নাল ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে দোকানে ডাকাত আসে। বিষয়টি টের পেয়ে জয়নাল জানালা খুলে বাইরে উঁকি দেন। সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা তার কপালে ডান চোখের ঠিক ওপরে গুলি করে। গুলিটি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে বন্ধুরা এসে ঘরের দরজা ভেঙে জয়নালের লাশ উদ্ধার করেন। পরে তারাই বাড়িতে জয়নালের মৃত্যুর খবর দেন।

উল্লেখ্য, চার ভাই এক বোনের মধ্যে জয়নাল আবেদীন ছিলেন দ্বিতীয়। এর আগে ২০১৫ সালের রমজান মাসে ঢাকায় খুন হন জয়নালের ছোট ভাই আমিন (২৫)। সোমবার ছোট ভাই আমিনের কবরের পাশেই কবর দেয়া হয় জয়নালকে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -