রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৪
Homeআন্তর্জাতিকদেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে  র্অথৈ সাগরে আজ গার্মেন্টস শ্রমিক

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে  র্অথৈ সাগরে আজ গার্মেন্টস শ্রমিক

মহামারি করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় ডেকে এনেছে দেশের ৪৫ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকের জীবনে। এ সময় তারা যেন অথৈ সাগরে পড়েছে। কারণ কথায় কথায় খাওয়া হচ্ছে শ্রমিকের চাকরি। গার্মেন্টস মালিকরা চাকরি খেলেও দিচ্ছে না পাওনা টাকা। করোনার সব রকম লক্ষণ দেখা দিলেও শ্রমিকদের ভাগ্যে জুটছে না করোনার পরীক্ষা। ফলে অনেকেই করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে। আবার যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদেরও চাকরি খেয়ে নিচ্ছে মালিকরা। কর্মস্থলের আশপাশে যেখানে শ্রমিকরা ভাড়া বাসায় থাকে, করোনায় আক্রান্ত হলে সে বাড়ির মালিক নামিয়ে দিচ্ছে ঘর থেকে। গ্রামের বাড়ি ফিরে গেলেও সেখানেও মিলছে না ঠিক মতো ঠাঁই। সব মিলে এক মহা সঙ্কটে পড়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এদিকে এখনও পর্যন্ত কত সংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তার সংখ্যা নিয়েও চলছে লুকোছাপা। বিজিএমইয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শখানেক শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছে। পুলিশ বলছে ৪ শতাধিক। আর শ্রমিক নেতারা বলছেন করোনায় গার্মেন্টস শ্রমিক আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং মারা গেছে প্রায় ২০ জন শ্রমিক।
বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের জন্য শুরুতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। মার্চের শেষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় সারা দেশে। বন্ধ থাকে সব শিল্প-কারখানা। এর মাঝেও যেসব কারখানার রফতানি আদেশ ছিল, যথাসময়ে তারা কাজ শেষের জন্য কারখানা খোলা রাখার সুযোগ পান। নিরাপত্তা ঝুঁকি জেনেও শ্রমিকরা কাজ করেছেন। মালিকদের যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেছেন। কিন্ত তারপরও পোশাক শ্রমিকদের ওপর খড়গহস্ত হতে দ্বিধা করেনি মালিকরা। করোনার এই মহামারিতে শ্রমিক ছাঁটাই না করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও, তা মানা হয়নি। শ্রম দিয়েও শ্রমিকরা পাননি নায্য মজুরি। কোথাও দেওয়া হয়েছে অর্ধেক বেতন, কোথাও কিছুই দেওয়া হয়নি। আর এর সঙ্গে ছাঁটাই তো রয়েছেই। সাধারণ ছুটির সময়ে সবাই যখন বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে, তখন এই শ্রমিকদের জীবন নিয়ে রীতিমতো তামাশা করা হয়েছে। ছুটি শেষে, ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা না দিয়ে শ্রমিকদের বাড়ি থেকে টেনে আনা হয়েছে। সমালোচনার মুখে তড়িঘড়ি করে আবার ছুটির ঘোষণা দিয়ে একইভাবে শ্রমিকদের বাড়িও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসা-যাওয়ার এই মিছিলে দেশে বেড়েছে করোনার ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এতে করে পুরো দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
আজ যে অমানবিকতা আচরণ শ্রমিকদের প্রতি দেখানো হচ্ছে তা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, ক্ষমারও অযোগ্য। সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেও, মহামারিকালে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে, সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে শ্রমিকদেরকে পথে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে নানাভাবে শ্রমিকদের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। আর সেই উসকানি দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে বঞ্চনার মাধ্যমে, তাদের প্রাপ্য ও নায্য পাওনা ঠকিয়ে। ক্রান্তিকালে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে যে অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা চলছে, তা সমাজকে যেমন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে, তেমনি ডেকে আনবে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও।

সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেও যারা শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে তাদের প্রতি কঠোরতার বিকল্প নেই। সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়োজনেই সরকারকে এদিকে নজর দিতে হবে। সরকার যে আন্তরিকতায় বৈশ্বিক এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়ছে, মহামারি পরবর্তী সব ধরনের বিপর্যয় রোধে দৃঢ় অবস্থান
নিয়েছে, তা কতিপয় লোভী এবং অমানবিক মালিকদের কারসাজিতে যেন বিফল না হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার দায়িত্ব বিজিএমইএ নেবেন এমন কথা বলা হলেও, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, বিজিএমইএ তা করছে না। এমনকি অসহায় এসব শ্রমিকের খোঁজও রাখা হচ্ছে না, অভিযোগ
রয়েছে উল্টো তাদেরকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই সরকারকে কঠোর হতে হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -