শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
Homeআন্তর্জাতিকদেশে চামড়া নিয়ে নানা ভোগান্তি ! সম্পদ থেকে আজ বর্জ্য

দেশে চামড়া নিয়ে নানা ভোগান্তি ! সম্পদ থেকে আজ বর্জ্য

চামড়া নিয়ে এবারও ভোগান্তির শেষ ছিল না। চামড়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। বিশ্বজুড়ে পশুর চামড়ার চাহিদা রয়েছে। অথচ আজ পশুর চামড়া যেন বর্জ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানি এলেই চামড়ার মূল্য থাকে না। কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী কারসাজি করে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অথচ সারা বছর পশুর চামড়া রফতানি করে তারা লাভবান হয়ে থাকে। তারাই কোরবানির চামড়া নিয়ে মানবতাহীন ভ‚মিকায় মাঠে নামে। কত কম এর মূল্য নির্ধারণ করা যায় সেই দিকেই পথ হাঁটে। সারা বছর চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকরা চড়া দামে চামড়া কেনাবেচা করে। কিন্তু কোরবানি এলেই তাদের অজুহাতের শেষ থাকে না। একটা না একটা জট পাকিয়ে সরকারের কাছ থেকে নানা প্রণোদনা পাওয়ার চেষ্টা করে। অথবা ঋণখেলাপি হওয়া সত্তে¡ও অল্প সুদে যাতে ঋণ পাওয়া যায় তারও টালবাহানা করে।

গত সাত বছরে ট্যানারি মালিকরা কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য কমিয়েছে অর্ধেকেরও বেশি। চামড়া দেশের রফতানিযোগ্য মূল্যবান সম্পদ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ চামড়া শিল্প নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা থাকলেও তা সঠিক প্রয়োগ বা অনুসরণ করা হয় না। বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবারে যা ঘটেছে তাকে অনেকে বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনা করছে। চামড়ার দাম এতটাই নিম্নগামী হয়েছে যে বিষয়টি অনেকের মাঝে বেশ হতাশার তৈরি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বেশ তড়িঘড়ি করে ঈদের পরদিনই ঘোষণা দিয়েছে যে কেউ যদি কাঁচা চামড়া রফতানি করতে চায় তাহলে তাকে অনুমোদন দেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেবার পরদিনই সোমবার ট্যানারি মালিকরা এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি তুলেছে। তারা বলেছে, সরকার কাঁচা চামড়া সংগ্রহের জন্য যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, সে দামেই তারা চামড়া কিনবে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ‘চামড়া কিনি আমরা ১০ দিন পরে। আমরা ট্যানারি মালিকরা লবণ দেওয়া চামড়া কিনি। আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফ্যাক্টরি করেছি। কাঁচা চামড়া যদি বিদেশে চলে যায়, আমরাও তো চামড়া পাব না।’ চামড়া রফতানির সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী এবং আড়তদাররা। চামড়া রফতানি করতে পারলে তারা লাভবান হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করে অনেকে। কারণ তারা ইতোমধ্যে কমদামে ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছে। এদেশে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। রফতানিযোগ্য মূল্যবান এ পণ্যটির মূল্য ক্রমাগত কমার দিকে রয়েছে। একসময় পশুর চামড়ার কোনো মূল্যই থাকবে না?

অথচ চামড়া শিল্পের জন্য নতুন করে আরও কয়েকশ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। তারপর কোরবানির চামড়ার মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের তৃণমূল বিক্রেতা এবং এ শিল্পের ভবিষ্যৎ চিন্তা করা উচিত ছিল। প্রতিবছর যদি কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নিন্মগামী হতে থাকে, তৃণমূলের বিক্রেতারা চামড়ার ওপর থেকে আস্থা তুলে নেবে। তার ফলে কোরবানির পশুর চামড়া বর্জ্যে পরিণত হতে বাধ্য। সংশ্লিষ্টদের রফতানিযোগ্য মূল্যবান এ সম্পদ রক্ষার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। চামড়ার বাজার এভাবে চলতে থাকলে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাবে। মানুষ কোরবানির চামড়া বিক্রি না করে বর্জ্য হিসেবেই দেখবে।

দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। ধারাবাহিক রফতানি ধসে মুষড়ে পড়েছে এ শিল্পের উদ্যোক্তারা। টানা পাঁচ বছর উল্টোপথে চলছে তৃতীয় বৃহত্তম এ রফতানি খাত। প্রতিবছরই কমছে আয়। বেকার হচ্ছে শ্রমিকরা। রফতানিকারক হারাচ্ছে বিশ্ববাজার। অথচ বিশ্বসেরা চামড়া রফতানি হয় বাংলাদেশ থেকে।
আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রত্যাশা করি, চামড়া শিল্প রক্ষার্থে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন। নইলে এ শিল্পের সামনের দিন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -