মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০২৪
Homeটাঙ্গাইল জেলাকালিহাতীনিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের দাপট বন্ধ হয়নি

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের দাপট বন্ধ হয়নি

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: সরকারের কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের দাপট বন্ধ হয়নি। অনেক যানবাহন আটক করার পরও এই অনিয়ম ঠেকাতে পারছে না হাইওয়ে পুলিশ।

জানা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের টোকেন নিয়ে মহাসড়কে চলছে সিএনজিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা। আগে চালকদের হাতে পুলিশের টোকেন থাকত। আর এখন অটোতেই লাগানো থাকে একটি স্টিকার। ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন টোকেন লাগানো থাকে এসব যানবাহনে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইল, বঙ্গবন্ধু সেতু, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল শহর থেকে এলেঙ্গা, কালিহাতী, ভূঞাপুর, করটিয়া, তারটিয়া, বাসাইল, জামুর্কী-পাকুল্যা, মির্জাপুর থেকে গোড়াই শিল্পাঞ্চল, দেওহাটা, হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ভটভটি ও নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন প্রকার তিন চাকার যানবাহন।

কখনো কখনো ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় থ্রি-হুইলারের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অধিকাংশ সময় অবাধে চলছে এসব যানবাহন। বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এবং রাত ৮টার পর থেকে বিনা বাধায় থ্রি-হুইলার বা কমগতির বাহন যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে।

টাঙ্গাইল বিআরটিএর তথ্যমতে, জেলায় নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে প্রায় চার হাজার। অথচ সংশ্লিষ্টদের মতে এর সংখ্যা ন্যূনতম ২৫ হাজার।

টাঙ্গাইল পৌরসভার তালিকা অনুযায়ী, দুই শিফটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে মোট তিন হাজার। অথচ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দেখা যায় যত্রতত্র। এর সংখ্যা ন্যূনতম ১০ হাজার বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মাঝে মধ্যে মহাসড়কে চলাচল করে।

টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে এলেঙ্গাগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মজনু মিয়া, আব্দুল হালিম, রাশেদুর রহমান, ভূঞাপুরের চালক ইলিয়াস মিয়া, রফিকুল ইসলাম, শামছু মিয়া, বাসাইল, জামুর্কী-পাকুল্যা থেকে টাঙ্গাইল শহরগামী সিএনজির চালক মোহাম্মদ আলী, নাজমুল ইসলাম, শিপন, সখীপুর থেকে আসা চালক রাসেলসহ অনেকেই জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে বা বাইপাস দিয়ে পৃথক কোনো সড়ক নাই। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে না পারলে তাদের পরিবারের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে উঠতে হয়। মাঝে মধ্যে পুলিশ অটোরিকশা আটকালে ‘টাকা দিয়ে’ পার করতে হয়। কখনো অটোরিকশা থানায় নিলে ফিরিয়ে আনতে ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা লাগে। তাই সড়কে পুলিশের সঙ্গে দফারফা করে চলতে হয়।

তারা আরও বলেন, মহাসড়কে চলাচলের জন্য সমিতির মাধ্যমে পুলিশের মাসিক চাঁদা তো দিতেই হয়। টোকেনে চলাচলরত নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়ক থেকে আটক হলে ছাড়িয়ে আনতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পুলিশকে দিতে হয়। সিএনজি অটোরিকশা চালকদের গ্যাস নিতে পাম্পে যাওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। পাম্পে যাওয়ার সময় অনেক সময় পুলিশ বাহন আটক করে এবং টাকা ছাড়া তা ছাড়ানো যায় না।

তারটিয়া থেকে টাঙ্গাইল শহরে অটোরিকশাচালক হাতিলা গ্রামের আল-আমিন, নাল্লা পাড়ার সাগর, ভাতকুড়ার পিন্টু মিয়া, রসুলপুর থেকে টাঙ্গাইল শহরগামী অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুস, নাইমুল আলম, আলম মিয়া, ফরহাদ আলীসহ মহাসড়কে চলাচলকারী চালকরা জানান, পৌরসভা এমনিতেই লাল ও নীল রঙের দুই শিফটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোর নিয়ন বেঁধে দিয়েছে। তার ওপর যদি মহাসড়ক টুকটাক ব্যবহার করার সুযোগ না থাকে তাহলে সারাদিনে ১০০ টাকাও পারিশ্রমিক জোটে না। দু’পয়সা বেশি রোজগার করতে বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠতে হয়।

তারা জানান, মহাসড়কে তারাও উঠতে চান না। কিন্তু যাতায়াতের পৃথক সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠতে হয় তাদের। কোন কোন সময় পুলিশ খুব ঝামেলা করে। পৌরসভার বৈধ কাগজপত্র থাকলেও গাড়ির চাবি আটকে রাখেন, অটো থানায় নিয়ে যায়। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়।

নম্বরবিহীন অটোরিকশার চালকরা জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০ টাকা দিয়ে টোকেন নিয়ে তারা চলাচল করেন। পুলিশের এই টোকেন আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ১০০% কার্যকর হলেও মহাসড়কে অনেক সময়ই কার্যকর হয় না। ধরে নিয়ে মামলা দেয়া হয় বা বেশি টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনতে হয়।

টাঙ্গাইল জেলা অটোরিকশা-আটোটেম্পু-সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধে সরকারের সঙ্গে আমরাও একমত। সেজন্য শ্রমিকদের ডেকে মহাসড়কে না উঠার নির্দেশনা দিয়েছি। তিন চাকার বাহনগুলোর মহাসড়ক ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি পৃথক সড়ক নির্মাণের দাবি জানাই আমরা।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) মো. রফিকুল ইসলাম, গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি একেএম কাউছার ও হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির এসআই রেজাউল বলেন, মহাসড়কে কোনো প্রকার থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যান চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। ‘ভাত খেলে ভাত পড়ে’ এর মতো দু’একটা থ্রি-হুইলার মহাসড়কে থাকতে পারে। তবে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ দিন-রাত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। মহাসড়কে নির্বিঘ্নে যান চলাচল অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর তারা।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -