বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
Homeসখিপুরআমাদের সখীপুরভিক্ষুকমুক্ত সখীপুরে ভিক্ষুকের ছড়াছড়ি

ভিক্ষুকমুক্ত সখীপুরে ভিক্ষুকের ছড়াছড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভিক্ষুকমুক্ত টাঙ্গাইলের সখীপুরে ভিক্ষুকের অতিষ্ঠে রাস্তায় কিংবা শপিংমলের সামনে দাঁড়ালেই পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। রিক্সা বা গাড়ি থেকে নামলে বাজার করতে আসা কাউকে পেলেই একঝাঁক ভিক্ষুক এসে ঘিরে ধরছেন তাদেরকে। আকুল হয়ে চাইতে থাকেন টাকা। না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়তেও চায় না তারা।
 সখীপুর পৌরশহর ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কিংবা জনসমাগমে  দেখা যায় ভিক্ষুকের আধিক্য। অনেকের কাছে রীতিমতো উৎপাত হয়ে দাঁড়িয়েছে এরা। ভিক্ষা চাইতে গিয়ে অনেকেই পিছু ছাড়তে নারাজ। শিশুরাও এ দলে সামিল। কেনাকাটা করে ব্যাগ হাতে বের হলে সেই ব্যাগ ধরেই চলতে থাকে টানাটানি। আগের চেয়ে বলতে গেলে দ্বিগুণ বেড়েছে ভিক্ষুক। মৌসুমী ভিক্ষুকদের পাশাপাশি যোগ হয়েছে নব্য ভিক্ষুকরাও।
জানা যায়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়  ২০১৯-২০ অর্থবছরে সারা উপজেলায়  ৮১ জন  ভিক্ষুককে তালিকাভুক্ত করে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২লাখ ৪৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয় । এবং সে থেকে এ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
শনিবার (৮ মে) পৌরশহরের বেশ কিছু এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শপিং মলগুলোর সামনে ভিক্ষা করার জন্য কেউ জায়গা দখল করে বসে আছে, কেউ ঘুরে ঘুরে লোকজনের পথরোধ করে দাঁড়াচ্ছে। কেউ কাউকে সাহায্য করতে দেখলেই ওই দাতাকে ছেঁকে ধরছেন বাকিরা।
ভিক্ষা করতে আসা উপজেলার কালমেঘা গ্রামের আনছের আলী, বগাপ্রতিমা গ্রামের মো.লাল মিয়া,   ইছাদিগী  গ্রামের নুরু মিয়া একই সুরে বলেন,  অভাবের সংসার আমাগো । ঠিকমতো  দুবেলা  খেতে পাইনা ।  সরকারের তেমন কোন সাহায্য পাইনা। তাইতো ক্ষিধের জ্বালা মিটাতে বাধ্য হয়েই ভিক্ষা করছি।
কথা হয় পৌরসভার পোড়া  মার্কেটে  ঈদের বাজার করতে আসা রিফাত শারমিনের সাথে, তিনি বলছিলেন তার অভিজ্ঞতার কথা।  কয়েকজন ভিক্ষুক ‘ভিক্ষার জন্য তার পিছুই ছাড়ছিল না। মনে হচ্ছিল তারা আমার পাওনাদার। বাধ্য হয়ে  তাদেরকে টাকা দিয়ে রক্ষা পাই।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনসুর আহমেদ  বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে খুজে খুজে  উপজেলার  ৮১ জন ভিক্ষুককে তালিকা করে তাদেরকে  পুনর্বাসন করা হয়েছে। তারা এখন আর কেউ ভিক্ষা করে না। কিন্তু পাশের উপজেলা থেকে ভিক্ষুকরা এসে এখানে  সয়লাব ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী  বলেন,  গত এক বছর পেরিয়ে গেলো  করোনার তাণ্ডব চলছে। এ সংকটকে কেন্দ্র করে গ্রাম গঞ্জে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।  গ্রামে কাজ নেই, ভিক্ষা দেওয়ার লোকও নেই। ভিক্ষাবৃত্তির সহজ কাজ। এ কারণেই হয়তো নতুন ভিক্ষুকের জন্ম নিয়েছে।  তবে তিনি বেশিরভাগ ভিক্ষুকই উপজেলার বাহিরে থেকে এসেছেন বলে দাবি করেন। এ উপজেলায় নতুন কোন ভিক্ষুক থাকলে আমরা তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবো।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular