বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
Homeজাতীয়মান্নানের ‘জনপ্রিয়তাই’ বড় বাধা হাসান উদ্দিনের

মান্নানের ‘জনপ্রিয়তাই’ বড় বাধা হাসান উদ্দিনের

ভোটের হাওয়া পুরোদমে বইছে গাজীপুরে। জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ হিসেবে পরিচিত এই সিটিতে আগামী ২৬জুন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও আলোচনায় আছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের দুই প্রার্থী। আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারকে নিয়েই চলছে কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ।

এক মাস আগে থেকেই ক্ষমতাসীন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সকল  ভেদাভেদ ভুলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি এলাকাতেই উন্নয়নের আশায় জাহাঙ্গীরের পক্ষে জোয়ার উঠেছে। ভোটের দিন তার প্রতিফলন ঘটবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীকে জয়ী না করার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে গাজীপুরবাসী। সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে গত নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীকেই নগরবাসী বেছে নিবেন বলে ধারণা করছেন তারা।

এদিকে আগের নির্বাচনে বিএনপি থেকে জয়ী মেয়র এম এ মান্নানকে নিয়ে এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপাকে আছে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। হাসান উদ্দিনকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর ছাড়াও অদৃশ্য প্রার্থী এম এ মান্নানকেও মোকাবেলা করতে হচ্ছে এবারের নির্বাচনে।

সরজমিনে গাজীপুর ঘুরে এবং বিশ্লেষণ করে একটি ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গাজীপুর বিএনপিতে এম এ মান্নানের জনপ্রিয়তা বিপুল। তার ধারে কাছেও নেই হাসান উদ্দিন। গাজীপুরে বিএনপিতে মান্নানের জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া গেছে অতীতে সিটি কর্পোরেশন সহ সংসদ সদস্য নির্বাচনে তার জয় পাওয়ার মধ্যে দিয়ে।

সাংগঠনিকভাবে তিনি একে একে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপি`র যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। গাজীপুর বিএনপির ইতিহাস আর এম এ মান্নান এক সূতোয় গাঁথা। অনেক আত্নত্যাগের বিনিময়ে গাজীপুর বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত গাজীপুরে বিএনপিকে সংগঠিত করতে গিয়ে অলি গলি চষে বেড়িয়েছেন এম এ মান্নান। বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে মান্নানের সম্মানজনক অবস্থান রয়েছে।

এদিকে হাসান উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাজীপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, তিনি বার বার রাজনৈতিক দল পাল্টানো নেতা। সেজন্য দলের দুঃসময়ে কখনই তাকে পাওয়া যায়নি। তার প্রতি নেতা কর্মীদের আস্থা নেই। একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে এম এ মান্নানকে মনোনয়ন না দেওয়াটা বিএনপির জন্য আত্নঘাতী সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য এরশাদ আমলে জাতীয় পার্টি থেকে পরপর দু`বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাসান উদ্দিন সরকার। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির দুর্দিন আসলে জাতীয় পার্টির রাজনীতি ত্যাগ করে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন এই চতুর সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ।

এছাড়া হাসান উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি ঘোরতর অভিযোগ রয়েছে যে, গাজীপুরের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডে তার আপন ভাই নুরুল ইসলাম সরকার জড়িত ছিল। এমনকি তার ভাই এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামী হিসেবে সাজাপ্রাপ্তও হয়েছে।

পাশাপাশি হাসান সরকার ভন্ড দেওয়ানবাগীর ভক্ত বলে জানা গেছে। তিনি অশীতিপর বৃদ্ধ। তাকে গাড়ি থেকে নামাতেই ৩/৪ জন লাগে। তিনি ক্ষমতায় গেলে গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিটির দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারবেননা। বিপরীতে, জাহাঙ্গীর আলম হলেন প্রতিশ্রুতিবান তরুণ ও দানশীল ব্যক্তি। নামে বেনামে তিনি দুস্থ ও গরীবদের অনেক সহায়তা করেন। তিনি অনেক গরীব লোককে নিজের টাকায় বেতন দিয়ে সিটি এলাকায় ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন।

এখন দেখার অপেক্ষা এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে কিভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করেন বার বার খোলস পাল্টানো  চতুর  রাজনীতিবিদ হাসান উদ্দিন সরকার।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -