Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

মির্জাপুরে ৯ কিলোমিটার রাস্তাই যেন মরণ ফাঁদ

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু একসেস রোডের সংযোগ সড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এলজিইডির অধীনে থাকা দেওহাটা-গেড়ামারা-ধানতারা সড়কের নয় কিলোমিটার আঞ্চলিক রাস্তা এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভাঙ্গাচোরা ও কাঁদা পানিতে একাকার রাস্তাটি চলাচলের জন্য অনুপযোগী।

রাস্তাটি প্রশস্ত করন ও শক্তিশালী করনের জন্য প্রায় ২৬ কোটি টাকার টেন্ডার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করায় এবং জনগুরুত্বপুর্ন রাস্তাটির উন্নয়ন না হওয়ায় পাঁচ উপজেলাবাসীকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তিন যুগ ধরে চলছে রাস্তাটির এই বেহাল অবস্থা।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্র ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, এলজিইডির অধীনে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের আঞ্চলিক রোড দেওহাটা-গেড়ামারা-ধানতারা রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়ে কালিয়াকৈর, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ এবং মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন যাতায়াত করে আসছে। স্বাধীনতার ৫১ বছরেও

দেওহাটা-গেড়ামারা-ধানতারা রোডের নয় কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন না হওয়ায় কৃষি নির্ভর এলাকার লোকজনের যাতায়াতের দুর্ভোগের শেষ নেই। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তার উপর হাটু পানি ও কাঁদা জমে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৩০-৪০ মাইল ঘুরে এলাকার লোকজনকে জেলা সদর টাঙ্গাইল ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

ট্রাক চালক মজনু মিয়া ও ভ্যান চালক রশিদ মিয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচন এলেই এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীগন রাস্তা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে থাকেন। নির্বাচন গেলে তারপর আর তাদের কোন খবর থাকে না। কেউ তাদের কথা রাখেন না। ভাঙ্গাচোরা ও খানা খন্দকে ভরা রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দুরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পরেছে।

অপর দিকে এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে রাস্তাটি দ্রুত প্রশস্ত করন ও শক্তিশালী করনের লক্ষে প্রথম প্যাকেজে সারে আট কোটি এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে প্রায় সারে ১১ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। রাস্তার দেওহাটা কচুয়াপাড়া এবং গেরামারা খালের উপর দুইটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রায় সাত কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। মোট প্রায় ২৬ কোটি টাকার টেন্ডার হলেও ঠিকাদার কাজ না করাও জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, এলজিইডির অধীনে দেওহাটা-গেড়ামারা-ধানতারা রোডের নয় কিলোমিটার রাস্তার খুবই বেহাল দশা এবং চলাচলের জন্য অনুপযোগী। রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নানা জটিলতার কারণে উন্নয়ন হচ্ছে না। রাস্তাটি দ্রুত উন্নয়নের জন্য স্থানীয় এমপি ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, দেওহাটা-গেড়ামারা-ধানতারা রাস্তাটি উন্নয়নের রাস্তাটির উন্নয়নের জন্য দুইটি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ১৯ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এই রাস্তার দেওহাটা কচুয়াপাড়া এবং গেরামারা গ্রামের খালের উপর দুইটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রায় সাত কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version