নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে ফস্টি নস্টি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে প্রেমিক বুলবুল সিকদার নামের (৩০) এক যুবক। গত সোমবার রাতে উপজেলার কচুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুলবুল কচুয়া দাপনাজোড় পাড়া গ্রামের লাল মিয়া সিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী, শশুর এলাকাবাসীর কাছে বিচার দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার সরেজমিন ঘটনাস্থল কচুয়া এলাকায় গেলে জানা যায়। ওই গৃহবধূর স্বামী একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে তিনি সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা যান। এ সুযোগে প্রেমিক বুলবুল সিকদার রাতে ওই গৃহবধূর শোয়ার ঘরে ঢুকেন। এ সময় ওই দুইজনের কানাঘুষা শব্দ শুনতে পেয়ে গৃহবধূর দুই দেবর আলীম ও আরিফ ভাবির ঘর থেকে বুলবুল সিকদারকে আপত্তিজনক অবস্থায় হাতে নাতে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে বুলবুল সিকদারের চাচা স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কচুয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শামসুল হক সিকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
কচুয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শামসুল হক সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। মীমাংসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী ফল ব্যবসায়ী শাহআলম ঢাকা থেকে ভোরে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি মাতাব্বরদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তার এ বউকে নিয়ে তিনি আর সংসার করবেন না। তিনি লম্পট বুলবুল সিকদারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুলবুল সিকদার দীর্ঘদিন ধরে কচুয়া এলাকাসহ সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিচার, শালিশের নামে মাতাব্বরি করে আসছেন। ঢাকায় তার উচ্চ পর্যায়ের এক নিকট আত্মীয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে থানায় দালালি, চাকুরির নামে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, তার অপকর্ম ঢাকতে ঢাকার ওই উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির প্রভাব এলাকায় বুলবুল সিকদার প্রচার করে দাপট দেখিয়ে থাকেন। এলাকাবাসীও লম্পট বুলবুল সিকদারের নানা অপকর্মের বিচার দাবি করেছেন। এদিকে, ওই গৃহবধূকে নানা চাপের মুখে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে বলে তার বাপের বাড়ির লোকজন ও স্বামীর বাড়ির লোকজন নিশ্চিত করেছেন।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
-
"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন। 
