Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

সখীপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালগাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্কঃ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে তালগাছের ঐতিহ্য অন্যতম। গল্প, ছড়া, কবিতা ও উপন্যাসের বহু জায়গা দখল করে আছে তালগাছ। ঐতিহ্যবাহী সেই তালগাছ ক্রমেই গ্রামবাংলা থেকে দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের বাহক নানা উপকারী এই তালগাছ রক্ষায় তেমন পদক্ষেপ না থাকায় ক্রমেই এটি বিলীন হতে চলেছে।

এক সময় সখীপুর উপজেলার গ্রামের আনাচে-কানাচে এবং সড়কের পাশে সারি সারি তালগাছ শোভা পেতে দেখা গেছে। কিন্তু সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ে না তেমন। এখন হঠাৎ কোনো গ্রামের ঝোপ ও জঙ্গলের পাশে দু’একটি তালগাছ চোখে পড়ে। যে দু-একটি তালগাছ এখন চোখে পড়ে সেসব আবার কারো লাগানো নয়, এমনিতেই এসব তালগাছ ঝোপ-জঙ্গলে বেড়ে উঠেছে। কেউ তাল খেয়ে বীচি ফেলে রেখে গেছে সেই বীচি থেকেই মূলত হয়ে উঠেছে এসব তালগাছ।

উপজেলার কালিদাস গ্রামের আঃ বাছেদ মিয়া বলেন, তালের পিঠা অতীতে জামাই বাড়ি, মেয়ের বাড়ি, শ্বশুর বাড়িসহ আত্মীয় বাড়িতে পাঠানো হতো। আপ্যায়ন করা হতো তালের পিঠা দিয়ে।

ঘেচুয়া গ্রামের বৃদ্ধ মোমরেজ আলী বলেন, এক সময় সখীপুর উপজেলায় সড়কের পাশে, ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে তালগাছ চোখে পড়তো। বর্তমানে কমই দেখা যায় তালগাছের সারি।

অতীতে গ্রাম, পাড়া, জমি, পুকুর, মাঠ, মসজিদ, স্কুল-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা চিনতে বলা হতো উঁচু ওই তালগাছটার পাশে। তালের গাছ ও পাতা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। তালের গাছের গুল দিয়ে গ্রামের সেমি পাকা ঘরের ছাদ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো বর্গা হিসেবে। গ্রামগঞ্জের পুরনো মাটির ঘরবাড়িতে এখনো পাওয়া যাবে এর চিহ্ন। ঘরের বর্গা হিসেবে এটি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। তাল পাতায় তৈরি হয় নানা ডিজাইনের হাতপাখা, যা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বহন করে। আগে প্রতিটি বাড়িতেই গরম আসলে আলপনা আঁকা তালপাতার পাখা দেখা যেত। তালগাছ উঁচু হওয়ার কারণে যেকোনো ঝড়ঝঞ্ঝা সবার আগে তালগাছের ওপরই নেমে আসে। আশপাশে তালগাছ থাকলে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ-রশ্মি ওই গাছের ওপর পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। তাতে করে বজ্র মর্ত্যে নেমে এসে প্রাণিকুল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি করার শক্তি হারায়। বেঁচে যায় প্রাণ, বাঁচে আবাস।

উপজেলার বি.এল.এস চাষী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আবুল হাশেম বলেন, তালগাছের বিভিন্ন উপকার ও ঐতিহ্যগত দিক ছাড়াও গ্রামবাংলার সব শ্রেণী-পেশার মানুষের বহুমুখী কাজে লাগে তালগাছ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় অযত্ন, অবহেলা ও গুরুত্বের অভাবে ঐতিহ্যবাহী তালগাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখনও অবশিষ্ট থাকা তালগাছগুলো এক শ্রেণীর কাঠ ব্যবসায়ী কেটে উজাড় করে চলেছেন। যে হারে কাটা হচ্ছে তার কম পরিমাণ তালগাছ রোপণও করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version