বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২৬
Homeজাতীয়সখীপুরে ছয় মাস আটকে রেখে কলেজ পড়ুয়া ভাতিজিকে ধর্ষণ; লম্পট চাচার নামে...

সখীপুরে ছয় মাস আটকে রেখে কলেজ পড়ুয়া ভাতিজিকে ধর্ষণ; লম্পট চাচার নামে মামলা

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :
টাঙ্গাইলের সখীপুরে কলেজ পড়ুয়া ভাতিজিকে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘ ছয় মাস ১৭ দিন আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে দুই সন্তানের জনক চাচা বাদল মিয়া (৪০)।
গত ৩০ জুলাই রোববার সন্ধ্যায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলার রতনপুর কাশেম বাজার এলাকার একটি ওই লম্পট চাচার নির্জন পরিত্যক্ত বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরের তালা ভেঙ্গে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই ছাত্রীর ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে সখীপুর থানায় অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন।
পুলিশ ও ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রতনপুর কাশেমবাজার গ্রামের দরবেশ আলীর ছেলে দুই সন্তানের জনক চাচা বাদল মিয়া কলেজ ছাত্রী ভাতিজিকে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে গত ১১ জানুয়ারি ভোরে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে তার চাচা’র (বাদল মিয়ার) পরিত্যক্ত একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ ও নেশা জাতীয় খাবার খাইয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এ সময় তাকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। সপ্তাহে দু এক দিন তাকে সামান্য পরিমাণ খাবার দেওয়া হতো। চাচাতো চাচা হওয়ায় ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে বাদল মিয়ার ছিল মধুর সম্পর্ক। নিখোঁজ হওয়ার পরেও ওই ছাত্রীর বাড়িতে বাদল মিয়া নিয়মিত যাওয়া-আসা করতো। মেয়েটি নিখোঁজের পর পরিবারের বদনাম হওয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করতেও দেয়নি ওই লম্পট বাদল মিয়া।
গত ৩০ জুলাই রোববার বিকেলে কয়েকজন শিশু বাদল মিয়ার ওই পরিত্যক্ত ঘরের পাশে খেলতে গিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ওই ছাত্রীর হাত লাড়াতে দেখতে পায়। শিশুরা ভূতের ভয়ে দৌড়ে গিয়ে তাদের বাবা মাকে বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা ওই পরিত্যক্ত ঘরের তালা ভেঙে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাকে ওই রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থার শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ টাঙ্গাইলে স্থান্তরিত করেন।
ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, ‘বাদল কাকা আমাকে তার একটি ঘরে আটকে রেখে দিন রাত পাশবিক নির্যাতন চালায়। ধর্ষণের পর আমাকে সামান্য পাউরুটি, বিস্কুট ও পানির বোতল দিয়ে আসতো। পরে ওইসব খাবার খেয়ে আমি অচেতন হয়ে পড়তাম।’
বুধবার দুপুরে ওই লম্পট বাদল মিয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে উপজেলার রতনপুর কাশেম বাজার গ্রামে গেলে তার অপকর্মের নানা কাহিনী বেড়িয়ে আসে। সে জেলা বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপটের সাথে চলাফেরা করত সে। তার বাবা মা অনেক আগেই মারা গেছে। বিয়েও করেছে একাধিক। চাকুরি দেওয়া, বিদেশ পাঠানো, শালিশ ও বদলির নামে এলাকার বহু মানুষের কাছে সে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বেশ কিছুদিন সে পুলিশের সোর্স পরিচয়েও মাদকের ব্যবসা করে যেতো।
বাদল মিয়া জেলা বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের বলেন, জেলা বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা সংগঠনে বাদল মিয়া নামে কোন নেতা আছে কিনা তা আমার জানা নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহসান হাবিব বলেন, বাদল এলাকায় একজন লম্পট আর প্রতারক নামে পরিচিত। এমন কোন অপকর্ম নাই যা সে করে নাই। পুলিশের সোর্স পরিচয়ে এলাকায় নিরিহ মানুষকেও নানাভাবে হয়রানি করত।
মামলার বাদী ওই ছাত্রীর বড় ভাই সুমন মিয়া বলেন, বাদল চাচা আমার বোনের এমন সর্বনাশ করবে আমাদের পরিবারের কেও ধারণাই করতে পারেনাই। আমি ওই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, ‘কলেজ ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মেয়েটির ডাক্তারি পরিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি বাদল মিয়াকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।’

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular