Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

সখীপুরে পুলিশের সোর্স আল-আমীনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুরে পকেটে ইয়াবা দিয়ে দিনমজুরকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই সোর্সের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় গ্রেফতারকৃত সোর্স আল আমীনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সোর্স আল আমিন উপজেলার রাজাবাড়ী গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে। মামলার পর থেকে সে পলাতক ছিল। গত শনিবার রাতে মির্জাপুরের গোড়াইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সখীপুর থানা পুলিশ। আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করত। এর আগে ওই মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন পুলিশ ও এক সোর্সকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে রোববার সকালে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এ সময় আল আমিনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই মামলায় সাত আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত তিন পুলিশ ও দুই সোর্সসহ ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত ২৮ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে সাদা পোশাকে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই সোর্স রাজাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় আসেন। তাঁরা এলাকার দিনমজুর মো. বজলুর রহমানের (২৬) পকেটে ইয়াবা বড়ি ঢুকিয়ে দেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁকে জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলেন। এ সময় বজলুরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন পুলিশের ব্যবহৃত ওই অটোরিকশাটি আটক করে। বজলুরের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে উপস্থিত লোকজন পুলিশ ও সোর্সদের তল্লাশি করে আরো কিছু ইয়াবা পান। এতে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ ও সোর্সদের পিটুনি দিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখেন। পরে উত্তেজীত জনতা সখীপুর থানা-পুলিশে খবর দেন। এ সময় মির্জাপুর উপজেলার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল গোপাল সাহা ও রাসেলুজ্জামান এবং তাঁদের সোর্স হাসান মিয়াকে জনতা সখীপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। গ্রেফতারকৃতদের প্রথমে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ফাঁড়িতে এবং সখীপুর থানায় নেওয়া হয়। ওই রাতেই সখীপুর থানার এসআই আয়নুল হক বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত চারজন ও পলাতক ৩জনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।

সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত)এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন- দুইদিনের রিমান্ড শেষে সোর্স আল আমীনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version