Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

সখীপুরে ৬০ হাত ঘর ভেঙে দিল বন বিভাগ, জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি :টাঙ্গাইলের সখীপুরে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দিয়েছে বন বিভাগ। আজ রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদিয়া চালা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বলছেন- ঘরের জমি ‘৬২ সনের আরওআর রেকর্ডভুক্ত এবং রেজিস্ট্রি দলিলমূলে মালিকানা প্রাপ্ত। অন্যদিকে বন বিভাগের দাবি- উপজেলার বগা মৌজার সিএস খতিয়ানের ৪৫ নম্বর দাগের ওই জমি সংরক্ষিত বন বিভাগের। এদিকে আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশের কারণে বিরোধপূর্ণ এসব জমি নিয়ে এমন পাল্টাপাল্টি দাবিতে আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম সখীপুর।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সখীপুর-বহেড়াতৈল সড়কের হলুদিয়া চালা বাজারের ওই জমিতে আগেও পুরোনো দুটি দোকান ঘর ছিল। ওই দোকানে স্থানীয় এক নারী চায়ের দোকান চালাতেন। সম্প্রতি দোকান দুটির অবস্থা নড়বড়ে হওয়ায় পুরোনো ঘর ভেঙে জমির মালিকেরা নতুন করে ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু আজ রোববার বন বিভাগ ওই ঘরটি সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণ করা হয়েছে দাবি করে ভেঙে দেয়।
জমির একাংশের মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, ১৯৬২ সনের আরওআর (রেকর্ড অব রাইটস) রেকর্ডভুক্ত জমিটুকু আমরা ছয়জন মিলে কিনেছি। জমির মূল মালিকের নামে রেজিস্ট্রি দলিল রয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে ওই জমিতে ঘর দেওয়ার সময়ও বন বিভাগ কোনো বাধা দেয়নি। কিন্তু আজ সকালে তারা কাউকে কিছু না বলেই ঘরটি গুড়িয়ে দিয়েছে। এতে ওই ঘরের অসহায় চা দোকানী শাহনাজ বেগমসহ আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।
চা দোকানদার শাহনাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওইখানে আমার পুরোনো চায়ের দোকান ছিল। দোকানটি দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ত। ঘরটি মেরামত করেছি, চারজন বাচ্চা নিয়ে এই চা দোকান করেই আমার সংসার চলে। আমার বাচ্চারা এখন কি খাবে! আমি এখন কি করবো!

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, ওই জমি স্পষ্টতই সংরক্ষিত বন বিভাগের। যা উপজেলার বগা মৌজার সিএস দাগ নম্বর ৪৫ এর অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে মার্কেট নির্মাণ করেছিল। খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেবের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আমরা ওই ঘর উচ্ছেদ করেছি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version