লাভলী আক্তার : বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারনে সৃষ্ট সামাজিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের অবস্থা এমনিতেই ভয়াবহ তার উপর চলমান করোনা পরিস্থিতির কারনে মেয়েরা আরো বেশি করে বাল্যবিবাহের ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দীর্ঘ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনে গ্রামীন পরিবারের অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার লোকেরা বাড়িতে অবস্থান করছেন।আর এই অবরুদ্ধ অবস্থায় মেয়েদের বিয়ে দিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন অসচেতন অভিভাবকরা।
করোনার কারনে অনেক অভিভাবকের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এটাও বাল্যবিয়ের একটা কারন।আবার করোনা কালীন সময়ে বিয়েতে লোক সমাগম কম হবে বলেও অনেক দরিদ্র পরিবার খরচ বাঁচাতে এই সময় মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে।তাই মান সম্মানের ভয়েও অনেক বাবা মা তাদের মেয়ে তারাতারি বিয়ে দিচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষনা বলছে, লকডাউনের মধ্যে পরিচিত মানুষ এমন কি পরিবারের সদস্য দ্বারাও মেয়েরা যৌন হেনস্থা শিকার হচ্ছে। এ দিকটাও বাল্যবিয়ে দেওয়ার একটা কারন হিসেবে কাজ করছে। ব্রাকের এক গবেষনায় বলা হয়েছে ৭১ শতাংশ বাল্যবিয়ে সংগঠিত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনে। প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মেয়ের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যায়। করোনার কারনে আগামী এক দশকে অতিরিক্ত আরো ১ কোটি ৩০ লাখ মেয়ে বাল্য বিয়ের শিকার হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
আর এ বাল্যবিয়ের কারনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে কিশোরী ওইসব বধুরা। অন্যদিকে করোনা কালীন বাল্যবিয়ের কারনে অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে গর্ভবতী হবার আশংকায় রয়েছেন।
করোনা মহামারীর এই সময়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো একটি সামাজিক ব্যধিকেও রোধ করতে হবে। এজন্য সরকারী কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সাংবাদিক, মহিলা সংস্থাসহ সকল সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।নারী শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। তাহলেই এ দেশ হতে বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা দূর হবে।

