২০১৯ সাল বিভিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে আলোচিত হয়েছে টাঙ্গাইল। ঘটে গেছে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা। এসব আলোচিত ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো।
চুল কাটা: ২০১৯ সালের মার্চে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যুবকদের চুল কাটা নিয়ে থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম জরিমানা বিধানের আইন তৈরি করে সেই নোটিশ বিভিন্ন সেলুনে টাঙানো নিয়ে বেশ আলোচিত হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে দেশ-বিদেশের মিডিয়াতে গুরুত্ব দিয়ে নিউজটি প্রকাশ হয়েছিল। এরপর উপজেলা নাপিত সমিতি সেটি প্রত্যাহার করে নেন।
ধানে আগুন ধরিয়ে কৃষকের প্রতিবাদ: ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ১২ মে দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক তার নিজের পাকা ধান ক্ষেতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ নিয়ে পুরো দেশে আলোচনা শুরু হয়।
হত্যাকাণ্ড: ২০১৯ সালে টাঙ্গাইলে কয়েকটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ছিল আট লাখ টাকার জন্য সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তার চার বছরের শিশু কন্যাকে জবাই করে হত্যা করা। নিহত দুজন হলেন- টাঙ্গাইল পৌর শহরের ভাল্লুুককান্দী এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী লাকী বেগম (২২) এবং মেয়ে আলিফা। এই ঘটনায় নিহতের স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই এলাকার রাইজউদ্দিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার বাড়ির মুরগির খামার থেকে লুট হওয়া আট লাখ টাকাও উদ্ধার করে পুলিশ। গত ২ আগস্ট টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাবা ও বড় ভাই পিটিয়ে হত্যা করে ছোট ভাইকে। এ ঘটনায় বাবা মফিজ উদ্দিন গ্রেফতার হলেও বড় ভাই মতিয়ার পলাতক রয়েছেন।
ছেলেধরা গুজব: গত ২১ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে কালিহাতী উপজেলায় সয়া হাটে ভ্যানচালক মিনু মিয়াকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। কিন্তু তিনি ছেলেধরা ছিলেন না। মূলত হাটে মাছ ধরার জাল কিনতে তিনি গিয়েছিলেন। পরে এ ঘটনায় মিনুর ভাই রাজিব হোসেন পরদিন রাতে বাদি হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ধর্ষণ: ২০ মে দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের চাঁদপুর (আঙ্গারিয়া) গ্রামের অশীতিপরে এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে সোহেল (১৪) নামে এক কিশোরকে আটক করে পুলিশ। পরে সোহেল ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। গত ১২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে স্বামীকে মারধর করে স্ত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে সারারাত ধর্ষণ করে বখাটেরা। পরে ওই রাতেই বখাটেদের কাছ থেকে পালিয়ে আসা স্বামীর অভিযোগে টহল পুলিশ তার স্ত্রীকে উদ্ধার ও ছয়জনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ২৮ নভেম্বর টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গাবিলার বাজার এলাকায় দিনমজুর ফরহাদ মিয়ার ছেলে বজলুরের (২৬) পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে এএসআই রিয়াজুলসহ সাদা পোশাকে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই সোর্স। সে সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ওই চারজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের উদ্ধার করে সখীপুর এবং মির্জাপুর থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ২৮ এপ্রিল চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জেসমিন আক্তারকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। এর আগের দিন ২৭ এপ্রিল চাঁদাবাজির অভিযোগ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে। ২৪ মে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে তাসের আড্ডায় পুলিশি অভিযানের সময় এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনায় অভিযান পরিচালনাকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের, সহকারী উপ-পরিদর্শক আশরাফুল আলম ও চার কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়।
এছাড়া সবচেয়ে আলোচিত টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর ১১ অক্টোবর বাবার বাড়ি ফিরে আসে নুরন্নাহার। পরদিনই ১২ অক্টোবর বিকেলে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে বর মোনছের আলী (৩২) নূরন্নাহাকে তালাক দেন। নূরন্নাহারকে তালাক দেওয়ার পর ওইদিনই শাশুড়ি মাজেদা বেগমকে (৪০) বিয়ে করে বাড়ি ফেরেন মোনছের আলী।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
