নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় শুক্রবার (৮ মে) পর্যন্ত নতুন করে ২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। জেলায় মোট ৪৬ জনের দেহে করোনার ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভূঞাপুরে ৫, নাগরপুরে ৩, মির্জাপুরে ২ ও মধুপুরে ১ জনসহ মোট ১১ জন সুস্থ হয়েছে। আর ঘাটাইল ও মির্জাপুরে দুইজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৪০৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) নতুন করে ১৮৪ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদের রেজাল্ট আগামীকাল শনিবার (৯ মে) পাওয়া যাবে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৩২১ জনকে।
ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৫৫৪ জনকে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ১১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২ জনের করোনার রেজাল্ট প্রজেটিভ এসেছে। এখন পর্যন্ত ২০২৩ জনের রিপোর্ট হাতে পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে ৪৬ জনের ফলাফল প্রজেটিভ এসেছে। বাকিগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে জেলায় মোট ৪৬ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছে। বাকি ৬ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিরা ঢাকা, ময়মনসিংহ হাসপাতালে ও বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া গত (৭ এপ্রিল) থেকে টাঙ্গাইল জেলা লকডাউন ঘোষনা করা হয়। শুক্রবার (৮ মে) পর্যন্ত লকডাউনের ৩১তম দিন অতিবাহিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ৪৬ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মির্জাপুরে ৮, ভূঞাপুরে ৭ জন, সখীপুরে ৬ জন, দেলদুয়ারে ৬ জন, নাগরপুরে ৫ জন, গোপালপুরে ৪, ধনবাড়ীতে ৩, টাঙ্গাইল সদরে ৩, কালিহাতীতে ২, মধুপুরে ১, ঘাটাইলে ১ জন রয়েছে।
এদের মধ্যে ভূঞাপুরে ৫, নাগরপুরে ৩, মির্জাপুরে ২ ও মধুপুরে ১ জনসহ মোট ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া জেলার ঘাটাইলে মহিউদ্দিন ও মির্জাপুরে রেনু বেগম নামে ২ জন মারা গিয়েছে। জেলার শুধুমাত্র বাসাইল উপজেলার এখনও কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি।
জেলায় এখন পর্যন্ত ৬৯৪৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৩৯ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ৬০৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে ৬ জন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৫৬১ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৩টি ও করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি।
এছাড়া জেলায় (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৮০০ পরিবারের মধ্যে ৬৭৮ মে.টন চাল ও ১৫ হাজার ৮৩টি পরিবারের মধ্যে নগদ ৩০ লাখ ৩৬ হাজার ৭০০ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ১২টি পরিবারকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া নতুন করে ১২টি উপজেলায় ৮৭০ মে.টন চাল, ৪৫ লাখ নগদ টাকা ও শিশু খাদ্যের জন্য ৫ লাখ টাকা উপবরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
