একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে এবার শুধু অনলাইনে আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এসএমএস পাঠিয়ে আবেদন করার সুযোগ আর থাকছে না। এ ছাড়া মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরুনো শিক্ষার্থীদের কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তিতে বেশ কয়েকটি কোটা বাতিল এবং ‘ভর্তি নিশ্চয়ন ফি’ বাড়ানোর প্রস্তাব রেখে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালার খসড়া করছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। ভর্তি আবেদন ১০ মে শুরু হয়ে ২৫ জুন শেষ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা ভোগান্তি হয় বলে এবার থেকে শুধু অনলাইনে আবেদন নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া নীতিমালায় বিভিন্ন কোটা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভর্তি নিশ্চয়ন ফি ১৩০ টাকার বদলে ১৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ বছর একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বিকেএসপি এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবাসী কোটা বহাল রেখে অন্যসব কোটা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে শুধু অনলাইনে আবেদন নেওয়া হলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতার পাশাপাশি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে কমিটি আশা করছে।
অনলাইনে মোট ১০টি পছন্দের কলেজ বা মাদ্রাসায় আবেদন করা যায়, সে জন্য ফি দিতে হয় ১৫০ টাকা। এই নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসছে না। এতদিন প্রতিটি কলেজ বা মাদ্রাসার জন্য ১২০ টাকা ফি দিয়ে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা যেত। এই নিয়ম এবার থাকছে না।
নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রথম ধাপের ১০-২০ মে ভর্তি আবেদন নেওয়া হবে। ২৭-৩১ জুন যাচাই-বাছাই, আপত্তি ও নিষ্পত্তি করে ৮ জুন প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে পুনঃনিরীক্ষায় যাদের ফল পরিবর্তন হবে তারা ১-৩ জুন পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৭-২০ জুন আবেদন নিয়ে ২০ জুন ফল প্রকাশ করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২৩- ২৫ জুন আবেদন নিয়ে ২৫ জুন রাতে ফল প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিউজ টাঙ্গাইলকে জানান, শিগগিরই একাদশে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করে তা জারি করা হবে। ৩-২৭ ফ্রেব্রুয়ারি এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা হয়েছে এবার। ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চের মধ্যে সব ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের বাংলা মাধ্যম ভর্তির জন্য ৯ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমের ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি তিন হাজার টাকার বেশি করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রসিদ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে দুই হাজার টাকা, ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
