নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল ফাইনাল খেলা চলা সময়ে বাড়ীতে বিদ্যুৎ না থাকায় মেয়ে কৃষ্ণা রানী সরকারের অভাবনীয় সাফল্য জোড়া দেখতে পারেনি মা নমিতা রানী সরকার। তবে, কৃষ্ণার বাবা পাশের এক গ্রামে গিয়ে খেলা উপভোগ করেছেন। এদিকে, বোন যেন ভাল খেলতে পারে সে জন্য উপবাস করেছিল তার ভাই পলাশ। সে ঢাকায় গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন।
সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে দেশের মানুষ এখন আনন্দে ভাসছে। ফাইনালে নেপালের মাটিতে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের এ সাফল্য খুলে দিয়েছে ফুটবলের নতুন দুয়ার। তিন গোলের মধ্যে দুটি গোলই করেছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। সেই আনন্দ ছুঁয়ে গেছে কৃষ্ণার বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাথালিয়ায় এলাকায়।
প্রথম বর্ষের পলাশ জানিয়েছেন, ‘দিদির খেলার জন্য সারা দিন উপবাসের ব্রত করে ছিলাম। জয়ের পর দিদির সঙ্গে কথা বলে তারপর খেয়েছি। দিদি টেনশনে ছিল। আমি তাকে সকালে বলেছি, তুমি টেনশন না করে ভগবানের নাম নিয়ে তোমার সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করো।
এদিকে, আমরাও উদ্বিগ্ন ছিলাম ফাইনাল নিয়ে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি যেন আমার দেশ এই শিরোপা জেতে। আর আমার দিদি যেন ভালো খেলতে পারে। ঈশ্বর আমার দুটি কথাই রেখেছেন। এই আনন্দ কাউকে বলে বুঝাতে পারব না।’
কৃষ্ণার মা নমিতা রানী সরকার আফসোস করেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় খেলা দেখতে পারিনি। খেলা শেষ হওয়ার পর প্রতিবেশীরা বাড়িতে এসে জয়ের কথা জানায়। আমার ছেলেও মোবাইল ফোনে বলেছে। আমি কৃষ্ণাসহ ওদের দলের সবার জন্য দেশবাসীর কাছে আশীর্বাদ চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন নতুন নতুন খেলতে যেত, তখন আমাদের অনেক কটুকথা সহ্য করতে হয়েছে। তবে এখন মেয়ের সাফল্যে ভালো লাগে। যারা একসময় সমালোচনা করত তারাই এখন প্রশংসা করে।’ সমাজ বদলাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনোভাবও। ক্রীড়াক্ষেত্রে মেয়েদের সাফল্যও মানুষ ভীষণ উপভোগ করে এখন।
কৃষ্ণার বাবা বাসুদেব সরকার বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় আমি পাশের গ্রামে গিয়ে খেলা দেখে দারুণ খুশি। মেয়ের খেলায় খুব খুশি। এলাকার মানুষও খুব উপভোগ করেছে। অনেকেই আনন্দে শুভেচ্ছা জানাতে আসছে। কৃষ্ণা যেন দেশের জন্য আরো গৌরব বয়ে আনে সেই আশীর্বাদ চাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ মল্লিক কৃষ্ণাকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘কৃষ্ণা শুধু গোপালপুর কিংবা টাঙ্গাইল জেলার নয়, সারা দেশের গর্ব। বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তার উত্থান শুরু। দেশে ফেরার পর আমরা ওকে বড় করে একটি সংবর্ধনা দেব। কৃষ্ণার মাকে কিছুদিন আগে রত্নগর্ভা সম্মাননা দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত প্রকাশ, গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ৩-১ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এনে দেন মেয়েরা। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরে বাংলাদেশ ভাসছে আনন্দের জোয়ারে। সেখানে কৃষ্ণা রাণী সরকারের জোড়া গোলে হিমালয় কন্যাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
