নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অলৌকিকভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীদের মধ্যে বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করেই বিভিন্ন বস্ত্র ও ঘরে এ অগ্নিকান্ড ঘটে আসছে।
গত ৫ দিনে ১০-১৫ বার এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।তবে অগ্নিকান্ড হওয়ার পর অজ্ঞাতনামা কেউ একজন ডাক দিয়ে বলে যে, আগুন লেগেছে আগুন লেগেছে, কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন! তবে বিষয়টি আশ্চর্য্যজনক হলেও ঘটনা সত্য। কারও লুঙ্গি, কারও কাপড় কিংবা উড়না, বা ঘরের ভেতরে নিমিষের মধ্যেই হঠাৎ করে আগুন লেগে পুড়ছে । বিদ্যুৎ লাইনের কোনো ত্রুটিও মেলেনি সরেজমিন ঘুরে। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া গ্রামে ঘটেছে। এ ঘটনাটিকে ঘিরে এখন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সীমান্ত জানান,গত রবিবার(৪নভেম্বর) থেকেই এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি আজও পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বেশ বড়ো আকারে ঘটেই চলেছে।
রবিবার সকাল ৯টার দিকে ঐ গ্রামের খ. মতিয়ার রহমানের বাড়ির বারান্দায় থাকা কাপড়ে হঠাৎ করে আগুন লাগে, তবে সেখানে বিদ্যুৎের লাইনের কোনো তার বা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনোকিছুই পাওয়া যায়নি, পরদিন সোমবার তোফাজ্জলের বাড়ির গোসল খানায় কাপড় রাখা ছিলো সকাল ৯.৩০ মিনিটের দিকে সে কাপড়ও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মঙ্গলবার সুজনের বাড়িতে বদ্ধ ঘরে লুঙ্গিতে আগুন লাগে, বুধবার সরজমিনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েও মিলেছে একই প্রমাণ! সকালে উড়না, দুপুরে গোসল খানায় থাকা কাপড় এবং বিকেলে করিমের ঘরে আগুন লেগে সকল কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং ঐ রাতেই আরও একটি বাড়িতে আগুন লাগে। আজ বৃহস্পতিবার মতিয়ার এবং সুজনের বাড়িতেও দুইবার আগুন লেগেছে! অগ্নিকান্ড হওয়ার ভয়ে রাতে বাড়িতেও থাকতে পারছেন না এলাকাবাসী।কেনো এ আগুন লাগছে, কি বা এর রহস্য এ সকল কিছু নিয়ে এলাকাবাসী রয়েছে অত্যন্ত বিপদের সম্মুখে। তবে এ অলৌকিক আগুনের রহস্য কেউ কি উদঘাটন করতে পারবেন? আর কবেই বা এ বিপদের মাঝ থেকে রক্ষা পাবে এলাকাবাসী?
পার্শ্ববর্তী স্থানীয় (নেতা) গোড়াই ইউনিয়ন আ.লীগের (পশ্চিম) সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই হঠাৎ করে ৪-৫টি বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে আসছে। কিন্তু কি কারণে ঘটছে এটাও বুঝতে পারছি না,গতকাল রাতেও ঐ বাড়িগুলোর লোকজন অন্যবাড়িতে রাত্রিযাপন করেছেন এবং আমরা মিলাদ পড়িয়েছি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,কি কারণে অগ্নিকান্ড ঘটেই চলেছে তা বলা যাচ্ছে না তবে ধারণা করে বলা যায় আবর্জনা থেকে মিথেন গ্যাস সৃষ্টির মাধ্যমেও অগ্নিকান্ড হতে পারে। কিন্তু এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

