Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে করোনার প্রভাবে চরম সংকটে তাঁতশিল্প

জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলে শাড়ী উৎপাদনকারী পরেশ বসাকের বাড়িতে ১৮টি তাঁত ছিল। করোনায় এ সবগুলোই বন্ধ রয়েছে। কোন তাঁতে এখনও সুঁতো (তানা) ঝুলছে। এর মধ্যেই মাকড়সার বাসায় ঘিরে ফেলেছে তাঁতগুলো। এমন চিত্র জেলার কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডীর তাঁতপল্লীতেও।

তাঁত বোর্ডের তথ্য মতে, এ জেলায় ৪১৫১ জনের মোট ৩৪৪০২টি তাঁত রয়েছে। এ পেশায় ১ লাখ ৩২০৬ জন তাঁত শ্রমিক সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে কেউ শাড়ি বুনেন, কেউ চরকায় সুঁতা কাটেন, কেউ কাপড়ের নকশার সুঁতা কাটেন। আবার সুঁতা রঙ করা, শুকানো, পাটিকরা, তানার সুঁতা কাটা, ড্রাম থেকে ভিমে সুতা পেঁচানো, তানা সাজানো, মালা বা নকশার ডিজাইন তোলা, কাপড় ভাঁজ করা, পেটি করা এবং বাজারজাত ও আনা-নেওয়ার কাজ করে থাকেন। গত পাঁচ মাসে তারা সকলেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

তাঁতপল্লী ঘুরে জানা গেছে, করোনার কারণে করটিয়া শাড়ি বিক্রির হাট বন্ধ আর শো-রুমগুলোতে ক্রেতা না থাকায় শাড়ি উৎপাদন করেনি মালিক পক্ষ। এদিকে দীর্ঘ সময় তাঁত বন্ধ থাকায় পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যায় তাঁতশিল্পের শ্রমিকরা। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও এখনও একদিকে ক্রেতা শূণ্য অন্যদিকে শ্রমিকের অভাব থাকায় অধিকাংশ তাঁত বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ।

এদিকে চন্ডী-পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় ১০০০০ হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। এগুলোতে প্রায় ১৫০০০ তাঁতী কাজ করেন। এছাড়া পুরো জেলাতে লক্ষাধিক তাঁতী রয়েছে। করোনার কারণে তাঁতীরা এখন পুরোপুরি কর্মহীন। শাড়ি ব্যবসার জন্য বৈশাখী ও ঈদুল ফিতর দুটি প্রধান মৌসুম। এবার এই দুই উৎসবে কোনো শাড়ি বিক্রি হয়নি। তাই নতুন শাড়ি বানানো হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তাঁতীদের ধরে রাখতে না পারলে পরবর্তীতে নতুন শ্রমিদের কাজ শিখিয়ে এ শিল্পকে ধরে রাখা যাবে না। এজন্য তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনাসহ সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জোড় দাবি জানান তিনি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version