নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ঘাটাইল উপজেলায় শিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষকের বিচার ও অপসারণ দাবী করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
রবিরার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে দুই ঘন্টাব্যাপী অবরোধে অচল হয়ে পরে মহাসড়কটি। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার করা হবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় ছাত্রীরা।
অভিযুক্ত এনামুল হক ঘাটাইল এস.ই. বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় বিষয়ক শিক্ষক, বাংলাদেশ ওলামা লীগ ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (মাধ্যমিক) ঘাটাইল শাখার দপ্তর সম্পাদক।
জানা যায়, ঘাটাইল এস.ই. বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক এনামুল হক শিক্ষকতার পাশাপাশি সৃষ্টি কোচিং সেন্টার নামে একটি নাইট কোচিংয়ের পরিচালক ও শিক্ষক। গত ২৫ জুলাই ঘাটাইল বাজারস্থ কালী মন্দিরের পেছনে সৃষ্টি কোচিংয়ে পড়তে যায় তারই নিজ প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। বেশ কিছু দিন আগে থেকেই শিক্ষক এনামুলের কুনজর পরে ঐ ছাত্রীর উপর।
ছাত্রীটি ঘটনার রাতে অন্য সকল ছাত্র-ছাত্রীর মতোই স্বাভাবিকভাবে কোচিং ক্লাসে অংশ নেয়। কোচিং ক্লাস চলাকালিন সময় এনামুল পাশের একটি নির্জন কক্ষে তাকে ডেকে নিয়ে কুপ্রস্তাব এবং তার গায়ে হাত দেয়। ছাত্রীটি শিক্ষকের এমন আচরণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরে এবং বিষয়টি ঐ রাতেই তার বাবা-মাকে জানান।
পরের দিন ২৬ জুলাই তার বাবা এমন নেক্কার জনক ঘটনা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে অবহিত করেন। ঐ দিন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ বিষয়টি আমলে নিয়ে এক জরুরী সভা ডাকে। সভায় শিক্ষক এনামুলকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যহতি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল এস.ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুলি বেগম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাকে পরিচালনা পরিষদের জরুরী সভায় বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে তাৎক্ষণিক অব্যহতি প্রদান করি।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ জানান, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদস্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে তিনি দোষি সাব্যস্ত হলে কঠোর আইনানুগ শাস্তি প্রদান করা হবে।

