Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

মির্জাপুরে পল্লীবিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলে বিপাকে দেড় লাখ গ্রাহক

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: প্রায় দেড় লাখ গ্রাহকের নামে ভুতুড়ে বিল দিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বিরুদ্ধে।

ফারিদা ইয়াসমিন নামে বাড়ির ভাড়াটিয়া গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তার নামে মাসিক বিলে ৫০০ টাকার বিলে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকার বিল। অথচ প্রতি মাসে তিনি ৩৫০-৫০০ টাকা বিল দিয়ে আসছেন। ভুতুড়ে বিলে হাতিয়ে নেওয়া টাকার পরিমান প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে ভুক্তভোগী অসহায় গ্রাহকরা জানিছেন। করোনার ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে এই দুর্যোগের মুহুর্তে গ্রাহকদের জিম্মি করে ভুতুড়ে বিল নেওয়ায় চরম বিপাকে পরেছেন ভুক্তভোগী অসহায় দেড় লক্ষাধিক পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক। আজ রবিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতশত গ্রাহক এ অভিযোগ তুলে ধরেন।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়ন এবং পাশ্ববর্তী সখীপুর উপজেলা এবং বাসাইল উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অধীনে মির্জাপুর জোনাল অফিস এবং গোড়াই জোনাল অফিস। সব মিলিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮৮ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ১০ হাজার ২১৭ জন, ক্ষুদ্র শিল্প গ্রাহক ৩৮৫, সেচ পাম্প গ্রাহক ৩ হাজার ৫৫০ জন, ব্যাটারি চালিত ছোট শিল্প গ্রাহক ৩ হাজার এবং অন্যান্য গ্রাহক ৯৭০ জন।

অভিযোগ উঠেছে জুন ক্লোজিংয়ের নামে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহকের নামে ভুতুড়ে বিল দেওয়ায় অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে অসহায় গ্রাহকদের। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে মিটারের রিডিং না দেখেই অফিসে বসে নিজেদের ইচ্ছেমত বিল বানিয়ে গ্রাহকদের পাঠিয়েছেন। প্রায় দেড় লাখ গ্রাহকের নামে গড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা ভুতুড়ে বিল দিয়ে এপ্রিল ও মে মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিস।

শনিবার গ্রাহকদের মধ্যে তক্তারচালা এলাকার আবাসিক গ্রাহক ফরিদা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি মাসে ৩৫০-৫০০শ টাকা বিল দিয়ে আসছেন। এ মাসে তার নামে ১৫ হাজার টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এটা কি করে সম্ভব। আমরা কি বিদ্যুৎ ভাতের পরিবর্তে খাই।

জামুর্কি ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের আবাসিক গ্রাহক খন্দকার আশরাফুল আলম অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে তিনি ৩৫০ টাকা থেকে ৫৬০ টাকা বিল দিয়ে আসছেন। মে মাসে তার নামে বিল দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ২৯৫ টাকা। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোন প্রতিকার পাননি। বাধ্য হয়ে ৫ হাজার ২৯৫ টাকা বিল পরিশোধ করেছেন। একই অভিযোগ করেছেন মির্জাপুর বাজারের খান টেড্রার্সের মালিক ব্যবসায়ী মো. আতোয়ার রহমান খান সাদত।

তিনি অভিযোগ করেন, করোনার কারণে গত তিন মাস তার দোকান বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়নি। তারপরও তাকে ৫০০শ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে বার বার অভিযোগ দিয়েও তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

বরং বিল পরিশোধ না করলে মিটার কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই অভিযোগ তুলে ধরেন গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বেশ কয়েকজন শিল্প, সেচ ও ক্ষুদ্র শিল্পের গ্রাহক। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শতশত গ্রাহক।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ মির্জাপুর এবং গোড়াই জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোর্শেদুল ইসলাম এবং (ডিজিএম) মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তীব্র গরম থাকায় গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি করেছেন।

এ জন্য বিল বেশি এসেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে গ্রহকরা জানেন না। যারা বিল পাওয়ার পর অফিসে যোগাযোগ করছেন তাদের বিল সমন্ময় করা হচ্ছে। যাদেও নামে বিল বেশি দেওয়া হয়েছে পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা সমন্নয় করে দেওয়া হবে বলে তারা দাবি করেন।

#ইত্তেফাক

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version