নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক অপু তালুকদার শিপলু সহ বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা কর্মীর নামে মামলা হয়েছে।
গত ২১ ডিসেম্বর শুক্রবার উপজেলার দেউলি ইউনিয়নের চকতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী আহসানুল ইসলাম টিটুর নির্বাচনি অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন চকতৈল গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম। এজাহারে ৪৫ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন ও নির্বাচনি অফিসে ককটেল বিস্ফোরনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ চান খা (৭০), সাধারন সম্পাদক এস.এম ফেরদৌস আহমেদ (৬০), সিনিয়র সহ-সভাপতি আজাদ মিয়া (৫৫), সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ (৫০), যুগ্ন-আহ্বায়ক কার্তিক চন্দ্র ভৌমিক, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রবিন মিররব (৩০), যুবদলের সহ-সভাপতি এস.এম আব্দুস সবুর (৪৫), ফাজিলহাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন (৫২), লাউহাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলা উদ্দিন (৫৫), দেউলি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), ডুবাইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক আলী (৫০), যুবদল নেতা শ্যামল ভুঁইয়া (৪০), যুবদল নেতা টনিক ও বাদলসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাতনামা ৪০/৪৫ জন কে বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় ইতিমধ্যে ছাত্রদল সভাপতি রবিন মিররব কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিএনপির নেতা কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মামলার পর বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্কে বিরাজ করছে। বিএনপির নেতা কর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্ক ও হামলার ভয়ে নির্বাচনি প্রচারনায় অংশ নিতে পারছেনা।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী অপু তালুকদার শিপলু জানান, গত কয়েকদিন আগে বাথুলী বিএনপির নির্বাচনি অফিস ভাংচুরের ছবি তুলতে গেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা বাধা দেয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা মামলার হুমকি দেয়। তার কয়েক দিন পরেই আমার নামে এ মামলা দেয়া হল। নির্বাচনি সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখতেই আমার নামে ষড়যন্ত্র মুলক এ মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
সোমবার উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এস.এম ফেরদৌস আহমেদ জানান, আওয়ামী লীগের লোকজন তারা নিজেরাই নিজেদের অফিস ভাংচুর করে আমাকে সহ আমাদের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীদের বেছে বেছে তাদের নামে মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে। এটি নিতান্তই হাস্যকর। নেতা কর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এবং ফাঁকা মাঠে গোল দিতেই তারা পরিকল্পিত ভাবে বানোয়াটি এ মামলা দায়ের করেছে। মামলা দিয়ে নেতা কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবেনা। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপির জয় হবেই।

