নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ২ মাতাব্বর আদালতে স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তারা জবানবন্দি দেন। তবে এঘটনায় মূল ধর্ষণকারী পুলিশের কাছে দোষ শিকার করেনি। তাই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। জবানবন্দি প্রদানকারীরা হলেন মাতাব্বর মাহতাব উদ্দিন এবং মাতাব্বর কামরুজ্জামান তারা। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ধর্ষক রফিকুল ইসলাম, মাতাব্বর মাহতাব উদ্দিন এবং মাতাব্বর কামরুজ্জামান তারাকে গ্রেফতার করে। পরে বুধবার তাদেরকে দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদর জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালত প্রেরণ করা হলে ৩ জনকে ১দিন করে রিমা- মঞ্জুর করেন আদালত। পরে রিমান্ডে তাদের জিঞ্জাসাবাদ করা হয়।
উল্লেখ্য, ধনবাড়ী পৌর শহরের রূপশান্তি পশ্চিম পাড়ার স্কুলছাত্রী (১৩) কে একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও জিয়াউল হক ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এতে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় কতিপয় মাতাব্বর গত ১৬ এপ্রিল রাতে এলাকায় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে কয়েক ঘা জুতাপেটা আর লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ওই বৈঠকে মেয়েটিকে ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং এ ব্যাপারে কোন উচ্চবাচ্য না করতে পরিবারকে হুমকি প্রদান করা হয়। ১৯ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর প্রভাবশালী ধর্ষক ও তাদের পরিবার নির্যাতিত ওই স্কুল ছাত্রীসহ তার পরিবারকে এলাকা থেকে কৌশলে সরিয়ে ফেলে জিম্মি করে রাখে। এর আগে থানায় মামলা না হওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ বাদী না পাওয়ার কথা জানায়। এ অবস্থায় ২২ এপ্রিল নিখোঁজ নির্যাতিত ওই পরিবারের সন্ধান ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করে উন্নয়ন সংগঠন নিজেরা করি, ধনবাড়ী উপজেলা ভূমিহীন সমিতি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল করে ধনবাড়ী ইউএনও’র মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
