নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল পৌর নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে তারা সবাই হতে চায় কাউন্সিলর। কেউ স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা, আবার স্থানীয় ধর্মীয় কিংবা সামাজিক সংগঠনের সদস্য। তারা সবাই হতে চায় কাউন্সিলর। ১নং ওয়ার্ডে তরুণ অনেক নেতাই নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। নিজেদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাই এখন লবিং তদবিরে ব্যস্ত।
এই ওয়ার্ডে ভোটার সংখা রয়েছে ৬৪২৭জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২৯৪জন, নারী ভোটার ৩১৩৩জন। টাঙ্গাইল পৌর শহরে জেলা সদর, দেওলা, আকুর টাকুর বটতলা, ধুল লেক কর্ণার এলাকা নিয়ে ১নং ওয়ার্ড গঠিত।
পৌর নির্বাচন উপলক্ষে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে গেছে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের অলিগলি। সারাদিন ভোটারদের বাড়ী বাড়ী যাওয়া আশা চলছে প্রার্থীদের। এবং বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ জায়গায় জমায়েত হয়ে যার যার প্রচারনা চালিয়ে যেতেও দেখা যায়।
টাঙ্গাইল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন দেওলা থেকে ৪জন, বটতলা থেকে ৩জন, মোট ৭জন। তারা হলেন-শহর আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান কাউন্সিলর তানভীর ফৈরদোস নোমান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিনুল হক খান নিক্সন, সদর থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম কবির, শহর আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ উজ্জল, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি টাঙ্গাইল ইউনিটের আজীবন সদস্য এবং টাঙ্গাইল জেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মিষ্টি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, শহর আওয়ামীলীগের সদস্য মো. সেলিম সিকদার, আওয়ামীলীগ নেতা মো. মাহফুজুল হক মোনায়েম।
বর্তমান কাউন্সিলর তানভীর ফৈরদোস নোমান বলেন, সবার যে জনপ্রিয়তা আছে তা সঠিক নয়। এলাকার জন্য যিনি কাজ করবেন, এমন প্রার্থীকেই বেছে নেবেন ভোটাররা। ৫ বছর ধরে আমি ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছি। ভালো কাজ করেছি বলেই এলাকাবাসী আমাকে এবার জয়যুক্ত করবেন। এবারও আমি আশাবাদী। আর মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। ওয়ার্ডবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। আমার কাজের মূল্যায়ন ওয়ার্ডবাসী করবেন এটাই প্রত্যাশা করি। ১নং ওয়ার্ডে ৫বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকার কাজ করেছি। করোনাকালে অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দিয়েছি। দেওলা খালের কাজ ইতিমধ্যে ৫কোটি টাকার টেন্ডার দেয়া হয়েছে।
সাবেক কাইন্সিলর মোমিনুল হক খান নিক্সন বলেন, আমি গত দুইবার কাউন্সিলর থেকে কাজ করেছি। আমি ওই ওয়ার্ডে সন্ত্রাসী ও মাদক এবং তাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিহার করে সন্ত্রাস মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে চাই। ১নং ওয়ার্ডের পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে চাই।
মো. শহীদুল ইসলাম কবির বলেন, ১নং ওয়ার্ডের সকল নাগরিক সুবিদা বাস্থবায়ন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক মুক্ত এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করার লক্ষে এ ওয়ার্ড বাসির পাশে থেকে কাজ করতে চাই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে। সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে তাদের সেবা দিতে চাই। তারাই মূল্যায়ন করবে আমাকে।
কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল হামিদ বলেন, এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক মুক্ত এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
হারুন অর রশিদ উজ্জল বলেন, ১নং ওয়ার্ড এলাকাবাসির সমর্থন পেলে আমি স্বপ্নের ১নং ওয়ার্ড গড়তে আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করবো। নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।
মো. সেলিম সিকদার বলেন, আজকে তরুন সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির কারন তারা মাদকের নেশায় তারা বিভিন্ন সামাজিক অন্যায়, অবিচার, খুন-খারাপি এগুলোর সঙ্গে জড়িত। আমি এলাকাসীকে শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার জন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই।
মাহফুজুল হক মোনায়েম বলেন, বর্তমানে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে মুক্তি পেতে চায় ওয়ার্ডের জনগণ। আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সার্বিক কাজে নিয়োজিত থাকবো।

