Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

ডেঙ্গু জ্বরে রোগীদের প্লেটিলেট কমে যাওয়ায় দিশেহারা স্বজনরা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক, পাঁচ দিনের প্রচন্ড জ্বর নিয়ে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি হন ৩২ বছর বয়সি ওয়াকিল আহমেদ। রক্তের প্লাটিলেট কমে গেলে তাকে প্লাটিলেট দিতে হয়। হাসপাতালে প্লাটিলেট দিতে ফি নেওয়া হয় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে অ্যাপ্রিহেটিক প্লাটিলেট দেওয়া হয়েছে। একজন সুস্থ মানুষ ১৫ দিন পরপর এই প্লাটিলেট দান করতে পারেন। বছরে ২৪ বার দিতে পারবেন। শুধু ওয়াকিল আহমেদের নয়; এবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত অনেককেই প্লাটিলেট দিতে হচ্ছে। এই হার শিশু ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি। এতে করে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট গ্রহণের সংখ্যা ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। রোগীর স্বজনরা অনেকটা দিশেহারা হয়ে ঘুরছেন রক্তের সন্ধানে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এবার বেশি থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও বøাড ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

ধরন ভেদে একজন ডেঙ্গু রোগীর জন্য ১ থেকে ৪ জন বা তারও বেশি রক্তদাতার থেকে প্লাটিলেট সংগ্রহ করতে হয়। এবার প্লাটিলেটের পাশাপাশি রেডসেল ও অন্যান্য উপাদানেরও প্রয়োজন পড়ছে। যে কারণে রক্তদাতাদের চাহিদাও বেড়েছে। রক্তের মূল্য বাদে অন্যান্য খরচ ১২ হাজার টাকা থেকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং শান্তিনগরে কোয়ান্টামে প্লাটিলেটের জন্য প্রচন্ড ভিড় লক্ষ করা গেছে। বøাড ব্যাংকগুলো গত বছর ডেঙ্গু রোগীদের জন্য যে হারে প্লাটিলেট সরবরাহ করেছে এবার তা অন্তত পাঁচগুণ বেশি। রক্তের জন্য বøাড ব্যাংকগুলো নির্ভরশীল রক্তদাতাদের ওপর। চাপ বেশি থাকায় তাই খোলা রাখা হচ্ছে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা। প্লাজমা আর অন্যান্য উপাদান আগেভাগে সংগ্রহ করে রাখা যায়। তবে প্লাটিলেট সরাসরি দাতার কাছ থেকে নিয়েই রোগীদের দেওয়া হয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে প্লাটিলেট কমে যায়। প্লাটিলেট কমে গেলে রক্তক্ষরণ হয়। রক্তক্ষরণে মানুষ মারাও যেতে পারে। প্লাটিলেট ২০ হাজার কম হলে রোগীকে বাড়তি প্লাটিলেট দিতে হয়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version