নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: বাংলাদেশ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করা শাহজাহান সিরাজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে তিনি ঢাকার পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। মৃত আব্দুল গণি মিয়া ও রহিমা বেগমের পুত্র শাহজাহান সিরাজ। ঢাকা গুলশানের বাসায় বার্ধক্যজনিত অবস্থায় আছেন এই রাজনীতিক। শাহজাহান সিরাজ ১৯৭২ সালে বিবাহ করেন। স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ, মেয়ে সারোয়াত সিরাজ ও ছেলে রাজীব সিরাজ। রাবেয়া সিরাজ একজন শিক্ষিকা এবং রাজনীতিবিদ।
১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে শাহজাহান সিরাজ ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় তিনি টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজের ছাত্র ছিলেন।
তিনি (১৯৬৪-৬৫) এবং (১৯৬৬-৬৭) দুইবার টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দাত কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন।
শাহজাহান সিরাজ (১৯৭০-৭২) অবিভক্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তিনি ১১ দফা আন্দোলনে এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যত্থানে একজন অন্যতম ছাত্রনেতা এবং স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রিয় ছাত্র পরিষদের চারজন কেন্দ্রীয় নেতার মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকার ৫ জন পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে শাহজাহান সিরাজ একজন এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সশস্ত্র যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স’ (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদেশের স্বাধীনতার পর তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। তিনি পরবর্তীতে সম্মানের সহিত জাসদেও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মুজিব বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে তিনি ৪ বছর কারাবরণ করেছিলেন।
শাহজাহান সিরাজ ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৯৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের অধীনে শাহজাহান সিরাজ বি.এন.পিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বি.এন.পি সরকারের শেষ পর্যায়ের দিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রি ছিলেন।
শাহজাহান সিরাজ এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ফোরামের এশিয়া অধ্যায়ের ৩ বার সভাপতি এবং অন্যান্য পার্লামেন্টারী সাব-কমিটির সদস্য ছিলেন।
বর্তমানে তিনি বি.এন.পি’র কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি।
শাহজাহান সিরাজ সক্রিয়ভাবে আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন শাহজাহান সিরাজকে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানী, সোভিয়েট ইউনিয়ন, জাপান এবং অন্যান্য দেশগুলোতে।
মুক্তিযুদ্ধের আগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন তিনি। তখন যাদের ‘চার খলিফা’ বলা হত তারই একজন শাহজাহান সিরাজ ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ‘ছাত্র আন্দোলনের নিউক্লিয়াস’র পক্ষে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
ওই দিন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান ‘চার খলিফা’র আরেকজন ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আ স ম আবদুর রব। ‘চার খলিফা’র অন্য দুজন হলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী এবং ডাকসুর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন।
এদের মধ্যে মাখন মারা গেছেন, নুরে আলম সিদ্দিকী রাজনীতিতে সক্রিয় নেই। আওয়ামী লীগ থেকে জাসদে যাওয়া আ স ম রব দলটির একটি অংশ নিয়ে চলছেন।
স্বাধীনতার পর রব-সিরাজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ভাঙন থেকে জাসদ গঠিত হলে সেই দলের সহ সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন শাহজাহান সিরাজ। তখন তাকে কিছু দিন কারাগারেও থাকতে হয়েছিল। পরে জাসদ ভাঙতে ভাঙতে কয়েকটি ভাগ হলে একটি অংশের নেতৃত্ব ধরে রাখেন শাহজাহান সিরাজ।
১৯৯৫ সালে দল নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী হন তিনি।
১৯৪৩ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্ম নেওয়া শাহজাহান সিরাজ ওই আসন থেকে বেশ কয়েকবার ওই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এই রাজনীতিকের স্ত্রী রাবেয়াও রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। বিএনপির সহযোগী সংগঠন মহিলা দলের নেত্রী থেকে এখন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক তিনি।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
