বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) ১০৬তম ব্যাচে সিপাহী (জিডি) পদে পুরুষ ও মহিলা প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ নিয়োগের আবেদন আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে।
দেশের সব জেলা থেকে যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে আসন সংখ্যা সীমিত।
প্রতিষ্ঠানের নাম: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
পদের নাম: সিপাহী (জিডি)
ব্যাচ: ১০৬তম
প্রার্থী: পুরুষ ও মহিলা
পদসংখ্যা: বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করা হয়নি; জনবল হ্রাস-বৃদ্ধির ভিত্তিতে আসন সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রার্থীকেই এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
বয়স: ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ জন্মতারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০০৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০০৯-এর মধ্যে হতে হবে। বয়স গণনার ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
শারীরিক যোগ্যতা
পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে:
উচ্চতা: ১.৬৮ মিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি)। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)।
ওজন: ৪৯.৯০ কেজি (১১০ পাউন্ড)। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ৪৭.১৭৩ কেজি (১০৪ পাউন্ড)।
বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) এবং স্ফীত অবস্থায় ০.৮১ মিটার (৩২ ইঞ্চি)।
দৃষ্টিশক্তি: ৬/৬।
নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে:
উচ্চতা: ১.৫৭৪ মিটার (৫ ফুট ২ ইঞ্চি)। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ১.৫২৪ মিটার (৫ ফুট)।
ওজন: ৪৭.১৭৩ কেজি (১০৪ পাউন্ড)। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ৪৩.৫৪৪ কেজি (৯৬ পাউন্ড)।
বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭১ মিটার (২৮ ইঞ্চি) এবং স্ফীত অবস্থায় ০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি)।
দৃষ্টিশক্তি: ৬/৬।
বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবিবাহিত হতে হবে। তালাকপ্রাপ্ত প্রার্থী গ্রহণযোগ্য নয়।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সিপাহী (জিডি) পদে বেতন স্কেল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, বাসস্থান এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে।
আবেদন পদ্ধতি: যোগ্য আগ্রহী পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের বিজিবির ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। আবেদন করা যাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১২টা পর্যন্ত।
আবেদন করতে মোট ছয়টি ধাপ অনুসরণ করতে হবে:
যোগ্যতা পরীক্ষা: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করে আবেদনের পদ্ধতিগুলো পড়ে এগিয়ে যান বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর যোগ্যতা পরীক্ষার সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন: যোগ্য হলে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দিতে হবে। মোবাইলে পাঠানো চার সংখ্যার ওটিপি কোড দিয়ে নম্বর যাচাই করতে হবে। এরপর সিস্টেম জেনারেটেড ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড স্ক্রিনে দেখা যাবে এবং এসএমএসের মাধ্যমেও তা পাঠানো হবে।
আবেদন ফি জমা: ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ফি প্রদান করুন অপশনে গিয়ে আবেদন ফি দিতে হবে। আবেদন ফি ৫৬ টাকা। ব্যাংকিং কার্ড অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ফি পরিশোধ করতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই: এসএসসি ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষার বছর, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি আপলোড: শিক্ষাগত তথ্য সঠিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে এবং সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড করতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করতে হবে। একবার তথ্য জমা দেওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করা যাবে না।
এডমিট কার্ড ডাউনলোড: পরীক্ষার আগে প্রার্থীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে এডমিট কার্ড ডাউনলোডের বিষয়ে জানানো হবে। এরপর ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইটে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে হবে। এটি প্রিন্ট করে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
টেকনিক্যাল বোর্ডের যেসব প্রার্থীর ফল অনলাইনে পাওয়া যায় না, তাদের আবেদনের সময় শিক্ষা বোর্ড হিসেবে অন্যান্য নির্বাচন করতে হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া: প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেওয়া হবে। শুধু নির্বাচিত প্রার্থীদের এইচবিএসএজি, অ্যান্টি-এইচসিভি, ফাস্টিং ব্লাড সুগার, এইচবিএ১সি, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ইউরিন আর/ই, ডোপ টেস্ট করানো হবে।
ফাস্টিং ব্লাড সুগার, এইচবিএ১সি, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিন আর/ই পরীক্ষায় যোগ্য, এইচবিএসএজি ও অ্যান্টি-এইচসিভি পরীক্ষায় নেগেটিভ এবং ডোপ টেস্টে ‘নট ডিটেক্টেড’ ফল পাওয়া প্রার্থীরাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। পরে সরকারের যথাযথ এজেন্সির মাধ্যমে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট (ভিআর) সম্পন্ন হওয়ার পর সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
নিয়োগের সময় যেসব কাগজপত্র লাগবে: নিয়োগের সময় প্রার্থীকে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল/প্রভিশনাল সনদপত্র, সংশ্লিষ্ট স্কুল/কলেজের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের দেওয়া প্রশংসাপত্র, অভিভাবকের অনুমতিপত্র, বাংলাদেশি স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদ, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা প্রদত্ত চারিত্রিক সনদের মূলকপিসহ সত্যায়িত ফটোকপি, নীল ব্যাকগ্রাউন্ডে ল্যাবে প্রিন্ট করা সদ্য তোলা ১১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, অবিবাহিত সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।
এ ছাড়া ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইট থেকে বিজিবি কর্তৃক পাঠানো এডমিট কার্ড/প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে সঙ্গে আনতে হবে। বিজিবির ওয়েবসাইট থেকে বিজিবিতে ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের তথ্যাদির ফরম ডাউনলোড করে যথাযথ তথ্য পূরণ করেও নিয়োগের সময় সঙ্গে আনতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর তা ফেরত দেওয়া হবে না। চূড়ান্ত আবেদন করার পর তা সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করা হবে।
আবেদনের সময় পাওয়া ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। বিজিবি কর্তৃক দেওয়া ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হারিয়ে বা মুছে গেলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফৌজদারি অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিজিবিতে চাকরির জন্য অযোগ্য হবেন।
স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে নিয়োগ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। নিয়োগের সময় কোনো বিষয়ে মিথ্যা বিবৃতি বা তথ্য গোপন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অথবা প্রজাতন্ত্রের অন্য কোনো চাকরি থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ বা চাকরিরত অবস্থায় বহিষ্কৃত প্রার্থীও চাকরির জন্য অযোগ্য হবেন।
লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের ক্লিপবোর্ড ও কলম সঙ্গে আনতে হবে। পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা যাবে না। নিয়োগ কার্যক্রমে আপলোড করা ছবিই সব নথিপত্রের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ডোপ টেস্টে মাদকাসক্ত প্রমাণিত হলে প্রার্থী চাকরির জন্য অযোগ্য হবেন।
নিয়োগের জন্য যাতায়াতের কোনো ভ্রমণ ভাতা দেওয়া হবে না। নিয়োগের সময় দাখিল করা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, অন্যান্য কাগজপত্র বা ঠিকানা পরবর্তী সময়ে ভুয়া প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে নির্দেশনা: আবেদনের ক্ষেত্রে নিজস্ব পৈতৃক স্থায়ী ঠিকানা বা নিজ জেলা ব্যবহার করতে হবে। ভাড়া বাসা, বর্তমান বা অস্থায়ী ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গণ্য করা হবে না।
হেল্প ডেস্ক: আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ০১৬৬৯৬০০৮০০ অথবা ০১৬৬৯৬০০৮৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। নিয়োগসংক্রান্ত সব তথ্য বিজিবির ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
আবেদনের সময়: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১২টা পর্যন্ত।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
