- ফরমান শেখ- নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দুই সন্তানের বাবা সোহেল খানের (৩০) বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার মাদারিয়া গ্রামের গোলাপ খানের ছেলে। এ নিয়ে সপ্তাহখানেক আগে গ্রাম্য সালিশে সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্কুলছাত্রী ও তার অসহায় পরিবার। এ বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।
ওই স্কুলছাত্রী জানান, সোহেল স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে নানা সময়ে উক্ত্যক্ত করতো এবং কু-প্রস্তাব দিতো। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে এক দোকানে সওদা কিনে বাড়ি ফেরার পথে সোহেল জোর করে রাস্তা থেকে তুলে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে ভয় দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং বিয়ের কথা বলে মাঝে মধ্যে ধর্ষণ করতো সে।
এনিয়ে বহুবার সোহেলকে বিয়ের কথা বললে সে নানা অজুহাত দেখায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেই যেতো। সম্প্রতি মাসখানেক আগে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে আমাকে চড় থাপ্পর মারে। পরে তিনি আমাকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে গর্ভের সন্তান ফেলে দেয়ার জন্য একাধিক বার চাপ দেয়।
তিনি আরও জানান, গর্ভের সন্তান ফেলে না দিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানাই। এদিকে, গর্ভের সন্তানের বাবার পরিচয় ও সমাধানের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন বিচার পাচ্ছি না। এখন সোহেলের স্ত্রীর মর্যাদা চাই।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, আমি দিনমজুরের কাজ করি। ঠিকমতো বাড়িতেও থাকা হয় না জীবিকার তাগিদে। মেয়ের মা কানে কম শুনে। সোহেল আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতো। এনিয়ে তাকে বহুবার নিষেধও করেছি। কিন্তু সে মানেনি। পরে জানতে পারি আমার মেয়ের সাথে তার শারীরিক সর্ম্পকের কথা। এনিয়ে তার পরিবারকে জানালে উল্টো আমার মেয়েকে সোহেল মারধর করতো। এছাড়া সোহেল প্রভাবশালী হওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছে নানাভাবে। যার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ ঘটনায় ফলদায় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মেয়ের অভিযোগে আমি কিছুদিন আগে ভূঞাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আল-আমিন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল খান, সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার আবুল কাশেম আজাদ, ইউপি সদস্য খাইয়ুল ইসলামসহ এলাকার মাতাব্বরদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বসি। পরে সালিশে সোহেল ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনের কথা অস্বীকার করায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ওই মেয়েটিসহ তার বাবা শুত্রবার (০৩ জুন) রাতে থানায় এসেছিল। পরে তারা বিস্তারিত বলার পর তাদেরকে থানায় মামলা রজু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এনিয়ে শনিবার (০৪ জুন) সকালে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা না আসেনি। পরে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

