Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

মির্জাপুরে বন্যায় কৃষিতে ক্ষতি সোয়া ১৭ কোটি টাকা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় কৃষক আজমত আলী এবার ৫০ শতক জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। বন্যার কারণে জমির সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পানি কমা শুরু করলেও তাঁর জমি এখনো আবাদের উপযোগী হয়নি। উপজেলায় বন্যার কারণে আজমত আলীর মতো হাজারো কৃষকের এখন মাথায় হাত।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যার কারণে উপজেলার কৃষি খাতে ১৭ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ৩০৩ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে ২৬ হাজার ১১০টি কৃষক পরিবারের ২ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কৃষকেরা জানান, মির্জাপুরে প্রায় দেড় মাস আগে বন্যার পানি আসে। প্রায় এক মাস ধরে বন্যা স্থায়ী হয়। এতে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষকেরা। বন্যার কারণে দুই দফা ক্ষতির হিসাব করে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমির বোনা আমন ধান, ১৩ হেক্টর জমির রোপা আমন, ১৫ দশমিক ৬০ হেক্টর জমির আউশ, প্রায় ৭ হেক্টর জমির পাট, ৪ হেক্টর জমির লেবু, ২ হেক্টরের কলা, ৩০ দশমিক ২ হেক্টর জমির আখ ও ১৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমির সবজি রয়েছে।

এদিকে প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও কৃষকের ভোগান্তি কমছে না। জমির পানি দ্রুত না নামায় কৃষকেরা ফসল চাষের উদ্যোগ নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

কৃষক আজমত আলী জানান, পানি দ্রুত না কমলে তাঁর পরবর্তী ফসলের চাষ বাধাগ্রস্ত হবে।

লতিফপুর ইউনিয়নের সেহড়াতৈল গ্রামের কৃষক সন্তোষ চন্দ্র বলেন, ‘করোনার কারণে আমার জমির করলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ন্যায্য দাম পাই নাই। তার ওপর বন্যার আঘাতে আমরা শ্যাষ হইয়্যা গেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, করোনাকালে মির্জাপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩৮৪ জন কৃষকের মধ্যে সার, বীজ ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version