শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার পলাতক আসামী বাবুর আত্মসমর্পণ

টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার পলাতক আসামী বাবুর আত্মসমর্পণ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার ৬ নম্বর পলাতক আসামী ‘দাতভাঙ্গা’ বাবু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবিরের আদালতে আসামী বাবু হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত এই হত্যা মামলায় দু’জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী (২১ নভেম্বর) ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা আদালতে উপস্থিত হন। এ পর্যন্ত আদালতে মোট ২১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।

টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই হত্যা মামলার আসামী সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে আসেন। পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। এদিন তৎকালীন অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেন ও টাঙ্গাইল পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার আব্দুল আলীমের স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তারা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। এছাড়াও এই মামলার ৬ নম্বর পলাতক আসামী দাঁতভাঙ্গা বাবু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তার জামিন বাতিল করে আসামী বাবুকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা বিগত ২০১৬ সালের (১৮ সেপ্টেম্বর) এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় চলতি বছরের গত মার্চে এবং গত জুলাই মাসে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর গত (৯ জুলাই) তিনি কারাগার থেকে বের হন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে তার শহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং বিগত ২০১৬ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

তদন্ত চলাকালে বিগত ২০১৪ সালের (১১ আগস্ট) সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের (২৭ আগস্ট) টাঙ্গাইল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামী মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন একই বছরের (২৪ আগস্ট)। তিনি দশদিনের রিমান্ড শেষে (৫ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উভয় আসামীর জবানবন্দিতে ফারুক আহমদ হত্যাকান্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই হত্যাকান্ডের সাথে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়। এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তদানিন্তন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন। বিগত ২০১৭ সালের (৬ সেপ্টেম্বর) আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বর্তমানে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular