নিজস্ব প্রতিবেদক: ফরমান শেখ:
প্রমত্ততা যমুনার বুক জুড়ে এখন কুণাইল জাতের বোরো ধান চাষ রোপন। এ বছর চলতি মৌসুমে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই কুণাইল জাতের ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা চরাঞ্চলের কৃষকরা। কনকনকে শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধানের চারা রোপন কাজে ব্যস্ত থাকেন। ধানের চারা রোপন কাজে সহযোগিতা করেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।

ছবি [১] যমুনা চরাঞ্চলের দিগন্ত জুড়ে জেগে ওঠা দ্বীপের ধারে কুণাইল জাতের ধানের চারা রোপন করছেন। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা চরাঞ্চলের গোবিন্দাসী ফেরীঘাটের অদূর থেকে তোলা- নিউজ টাঙ্গাইল।
এদিকে, গেল কয়েকমাস ধরে যমুনা নদীর পানি কমে চরাঞ্চলে ছোট বড় অসংখ্য দ্বীপ চর জেগে ওঠেছে। বাদাম, খেসারি, মসুর ডাল, ভুট্রা, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরণের রবি ফসল বপনের পাশাপাশি স্থানীয় কুণাইল জাতের ধানের চারাও রোপন করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে কুণাইল জাতের ধান চাষে কোন ধরণের কীটনাশক ছাড়াই প্রতি বিঘায় ৯/১২ মণ ধান উৎপাদন হয় থাকে বলে জানান কৃষকরা।
ছবি [২] যমুনা চরাঞ্চলের দিগন্ত জুড়ে জেগে ওঠা দ্বীপের ধারে কুণাইল জাতের ধানের চারা রোপন করছেন। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা চরাঞ্চলের গোবিন্দাসী ফেরীঘাটের অদূর থেকে তোলা-নিউজ টাঙ্গাইল।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অংশে জেগে ওঠা চরের নদীর কোলঘেষে শতশত একর জমিতে কুণাইল জাতের বোরো ধানের চারা রোপন করছে চাষিরা। তবে কুণাইল জাতের ধান চাষে চাষিরা ভাল ফলনের সম্ভাবনা দেখলেও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায় ভিন্ন কথা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম রাশেদুল হাসান এর মতে, এ জাতের বোরো ধানকে স্থানীয় ভাষায় কুণাইল বোরো বলে থাকে। তারমধ্য কালিপুরো, কুণাইল বোরো, ধুলী বোরো এই ৩ ধরণের স্থানীয় বোরো চাষ হয়। নদী চরাঞ্চলের কিনারে চাষিরা চরাঞ্চলের বালি মাটিতে (পুঁতে) লাগিয়ে থাকেন। পরিচর্যা ছাড়াই ফলন হলেও কুণাইল জাতের ধান চাষে কৃষকরা লাভবান হতে পারে না।
ছবি [৩] যমুনা চরাঞ্চলের দিগন্ত জুড়ে জেগে ওঠা দ্বীপের ধারে কুণাইল জাতের ধানের চারা রোপন করছেন। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা চরাঞ্চলের গোবিন্দাসী ফেরীঘাটের অদূর থেকে তোলা- নিউজ টাঙ্গাইল।
চরাঞ্চলের গাবসারা কালীপুর এলাকার কৃষক মো. আলীম জানান, যমুনা চরাঞ্চলে এখন শুস্ক মৌসুম। কুণাইল জাতের বোরো ধান চাষাবাদের উপযুক্ত সময়। তাই বোরো ধান চারা রোপন করছি। এ ধানের চারা রোপনে কোন খরচ নেই। কৃষক আব্দুর রহিম জানান, এ জাতের ধানচাষে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ বা সহযোগিতা পেলে আমরা বোরো চাষিরা আরও স্বাবলম্বী হতে পারব। তিনি আরও বলেন, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোণাইল জাতের ধান চাষের কোন বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন রাসেল জানান, প্রতিবছর যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরগুলোতে পর্যান্ত পরিমাণের পলি মাটি জমে। যার ফলে চরাঞ্চলের বালিমাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এবছর দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় চরাঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার কারণে এবার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য চরাঞ্চলের কৃষকরা স্থানীয় কুণাইল জাতের বোরো ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছে। অন্যদিকে, গতবারের তুলনায় চলতি মৌসুমে দ্বিগুণহারে চাষাবাদ করছে। এজন্য কৃষকদের সকল সহযোগিতা করা হবে।

