নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক নৃত্যশিল্পীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছেন এক আসামি। রোববার বিকেলে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিশিয়াল আমলি আদালতের হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় আসামি তার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জোরপূবর্ক তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিওি ধারণের অভিযোগ এনে গত শনিবার রাতে ওই নৃত্যশিল্পী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করলে পুলিশ স্টার বয়েজ ক্লাবের সদস্য ও দুই নম্বর আসামি প্রিন্স মাহমুদ (২০) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে গতকাল রোববার আদালতে পাঠান। পুলিশ ওই আসামির কাছ থেকে মুঠোফোনসহ একাধিক ভিডিও উদ্ধার করেছেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, স্টার বয়েজ ক্লাব ও লোকাল বয়েজ ক্লাবের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটে।
মামলার বাদী নৃত্যশিল্পী সুমন আহমেদ ঢাকা রবীন্দ্র ক্লাবের জুনিয়র সভাপতি ও সখীপুর লোকাল বয়েজ ক্লাবের সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে কথা জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই নৃত্যশিল্পী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে স্টার বয়েজ ক্লাবের পাঁচ তরুণ দুটি মোটরসাইকেল যোগে এসে ওই শিল্পীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত পোলট্রিখামারে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে নৃত্য করতে বাধ্য করা হয়। ওই পাঁচ তরুণ তাদের মুঠোফোনে বিবস্ত্র নৃত্যের ভিডিও ধারণ করে। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি প্রিন্স মাহমুদের কাছ থেকে ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৪ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

