Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

সখীপুরে কেঁচো কম্পোস্টে আগ্রহী চাষিরা, বাড়ছে উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সখীপুর উপজেলায় ফসলি জমিতে রাসয়ানিক সার ব্যবহারের কারণে মাটির উর্বরশক্তি হ্রাস পেয়েছে। এতে করে অধিকাংশ চাষিরা প্রতিবছর মোটা অংকের টাকা লোকসান গুনছেন। তবে সচেতন চাষিরা জমিতে রাসায়নিকের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারে বেশি আগ্রহ হচ্ছেন। আর জমির উর্বরতা ফিরে আসার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনে ফলনও হচ্ছে আশানুরুপ।

এদিকে চাষিদের মধ্যে জৈব সারের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট সার। যাকে স্থানীয়ভাবে কেঁচো সারও বলা হয়। কম দাম, অধিক কার্যকারিতা ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এ সার ব্যবহারে অনেক কৃষকেই এখন আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, গবাদিপশুর গোবর, শাকসবজির উচ্ছিষ্ট, খোসা ও কচুরিপানার মিশ্রণে প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদন করা হয় কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার।

পচনশীল দ্রব্য দিয়ে তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারে জমির গুণগত মান ঠিক থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার একটি ফসল বা গাছের সুষম খাদ্যের জোগান দেয়। যেখানে রাসায়নিক সারে কেবল এক বা দুটি খাদ্য উপাদান থাকে সেখানে ভার্মি কম্পোস্টে রয়েছে সুষম খাদ্য উপাদান। কেঁচো সার উৎপাদনে এপিজিক ও এন্ডিজিক নামক কেঁচো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে মাটিতে অণুজীবের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায়। সাধারণত রিং পদ্ধতিতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হয়।

কলার বাকলসহ বিভিন্ন ঘাস, লতাপাতা দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ রেখে দিতে হয়। পরে রিংয়ের মধ্যে ২০০ গ্রাম এপিজিক ও এন্ডিজিক কেঁচো মিশিয়ে রাখতে হয়। এভাবেই তৈরি হয় ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। এ সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব।

উপজেলার বোয়ালী পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক আলফাজ আল মোমেন বলেন, উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে ১০টি রিং, ৫টি স্থায়ী ভার্মি কম্পোস্ট হাউস, কেঁচোসহ ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত একটি রিং দিয়ে ৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করা যায়। সার তৈরিতে প্রয়োজন হয় কেঁচো, পচা গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, তরকারির খোসা ও কচুরিপানা। সব উপকরণ না পেলেও কেঁচো, কলার খোসা ও পচা গোবর দিয়ে এ সার তৈরি করা যায়।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, ৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় মাস। ৫০ কেজি সার ৩০ শতক জমিতে ব্যবহার করা যায়। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে তেমন খরচ না হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন জানান, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান প্রকল্পের আওতায় আমরা উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উপকরণ বিতরণ করেছি। এ সারের উপকারিতা দেখে দিন দিন কৃষকরা নিজ খরচেই এ সার তৈরি করছেন। ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো কম্পোস্ট উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version