Site icon News Tangail | নিউজ টাঙ্গাইল

সখীপুরে গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কারখানার পরিত্যক্ত তুলা!

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কারখানার পরিত্যক্ত তুলা! যা ব্যবহারে পশুর স্বাস্থ্যহানি ও মৃত্যু ঝুঁকিও রয়েছে। পাশাপাশি মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ক্ষতির প্রভাব পড়ছে। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যাস্ত সময় পার করছেন গরুর খামারি ও কৃষকরা। অনেকেই তুলা খাবার হিসেবে ব্যবহার করলে গবাদি পশুর স্বাস্থ্য ভালো হয় এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকেও এ ধরনের খাবার ব্যবহার করছেন। এটি বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল। এদিকে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে এইসব পরিত্যক্ত ক্ষতিকারক তুলা কম দামে ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি ও মজুদ রেখেছেন এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরশহরের জামতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম গো-খাদ্য হিসেবে কারখানার ক্ষতিকারক উচ্ছিষ্ট তুলা মজুদ রেখে বিক্রি করছেন।
গো-খাদ্য হিসেবে তুলার ব্যবহারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রতি কেজি তুলা বর্তমান বাজারে ১৫ টাকা ধরে বিক্রি করি। মাসে প্রায় ৬ টন বিক্রি করা যায়। গবাদি পশুকে তুলা খাওয়াচ্ছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ উপজেলায় আমার মতো আর অনেক তুলা ব্যবসায়ী রয়েছে। এছাড়া এ ব্যবসা করলে ক্ষতি কিসের? তুলা গরুকে খাওয়ালে কোন ক্ষতি হয়না। এর আগে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও প্রশাসনের নাকের ডগায়া তিনি এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল জানান, পশুর একমাত্র সুষম খাদ্য খড় ঘাস। এগুলো উৎপাদনে খামারীদের উৎসাহ দিয়ে থাকি। তবে কারখানার পরিত্যক্ত তুলা গবাদি পশুর জন্য ক্ষতিকারক। পশু খাদ্যে এসব ব্যবহার করলে এর স্বাস্থ্য হুমকীর মুখে পড়বে পাশাপাশি গবাদিপশুর মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও চিত্রা শিকারী জানান, যেসব খামারী ও কৃষকরা কারখানার উচ্ছিষ্ট পরিত্যক্ত তুলা ব্যবহার করবে এবং যেসব অসাধু ব্যবসায়ীরা বিক্রি এবং মজুদ রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
Exit mobile version