নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুলিশের দায়ের করা নাশকতার মামলায় ১৬ নম্বর আসামী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদকের নাম কেটে উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি’র নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ এনে সখীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির ১৫ ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের এক নেতাকে আসামি ও আরও ৫০-৬০জনকে অজ্ঞাত নাম দিয়ে মামলা করেন।
মামলার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় ডাকবাঙলো চত্ত্বরে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক মীর জুলফিকার শামীমের বিরুদ্ধে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম সখীপুর থানা ওসিকে সাত দিনের মধ্যে নাম কাটার দাবি জানান। অবশেষে মামলার চারদিন পর পুলিশ ওই মামলার আসামি থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মীর জুলফিকার শামীমের নাম কেটে তার স্থলে উপজেলা যুব দলের সহ-সভাপতি শামীম আল মামুনের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়।
অপরদিকে গ্রেফতারের ভয়ে বিএনপির এমপি প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ হাবীবসহ শীর্ষ নেতারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যেখানে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিদিন গণসংযোগ করছেন। অথচ বিএনপির প্রার্থীরা গ্রেফতারের ভয়ে কেউ মাঠে আসতে পারছে না। ভোটারদের সঙ্গে দেখা করা বা কুশল বিনিময় কিছুই করতে পারছেন না। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ করে সখীপুর উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় বিএনপির নেতাদের বাসায় পুলিশি অভিযান চালানো হয়। ওই রাতে পাঁচজনকে ধরে ৭ সেপ্টেম্বর নাশকতার প্রস্তুতির মিথ্যা অভিযোগ এনে ১৬ জন বিএনপি নেতার নাম ও ৫০-৬০জন অজ্ঞাতনামা আসামি লিখে একটি মামলা ঠুকে দিয়েছে। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর রাতেও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেলকেও গ্রেফতার করা হয়। বিএনপি করে অথবা গায়ে বিএনপির গন্ধ আছে- সখীপুর-বাসাইলের এ ধরনের পাঁচ শতাধিক নেতা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতালীগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই মামলার ১৬ নম্বরের আসামির নাম লেখা হয় জুলফিকার শামীম। পিতার নাম মওলানা আবুল হোসাইন। ঠিকানা লেখা হয় সখীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড। নামটির সঙ্গে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদকের নাম ও পিতার নাম হুবহু মিলে যায়। তবে মামলায় ওই নেতার ঠিকানায় ৪ নম্বর ওয়ার্ড লেখা থাকলেও ওই নেতার বাড়ি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে।
মামলার তদন্তকারী পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান জানান, তদন্ত করে মামলার এজাহার সংশোধন করা হয়েছে। ১৬ নম্বর আসামি হিসেবে জুলফিকার শামীম নামটি সংশোধন করে শামীম আল মামুন করা হয়েছে। পিতার নাম আবুল হোসেনের পরিবর্তে রাঙ্গু মিয়া লেখা হয়েছে। সংশোধিত আসামি শামীম আল মামুন উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি। তিনি বর্তমানে সখীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাড়াটিয়া বাসায় থাকেন।
পালিয়ে থাকা উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও নতুন আসামি শামীম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে ওই মামলায় আমার নাম ছিল না। পুলিশের ভুলের খেসারত অবশেষে আমাকে বইতে হচ্ছে। আমার নামের এক অংশে শামীম থাকায় পুলিশ কৌশল করে আমার নামটি সংযোজন করে দিয়েছেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম তুহিন আলী বলেন, মামলায় সবই ঠিক ছিল শুধু পিতার নাম লিখতে ভুল হয়েছিল। তদন্ত করে এজাহারে সংশোধ করা হয়েছে। আসীমকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

